বেশি দামে লবন বিক্রি , পুলিশ দেখে দোকান বন্ধ


জুনাইদ কবির, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের সকাল থেকে শুরু হয়েছে লবণ কেনার প্রতিযোগিতা। কেউ ২ কেজি, কেউবা ৩ কেজি আবার অনেকে পুরো মাসের লবণ কিনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। লবণ কেনাকে কেন্দ্র করে ভোর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত লবণ বিক্রির দোকানগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সকালে হঠাৎ লবণের দাম বাড়বে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে পুরো জেলায়। শহর ও গ্রামের মানুষগুলো ছুটে আসা শুরু করে লবণ কেনার জন্য। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরাও পেঁয়াজের মতো লবণের দাম বৃদ্ধি করে। ২০ টাকার লবণ ঘণ্টার ব্যবধানে দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ টাকা কেজিতে।

ঠাকুরগাাও সদও উপজেলার এক যুবক রায়হান (২৬) জানান, গুজবকে কাজে লাগিয়ে সকাল থেকেই লবণ ব্যবসায়ীরা দাম বৃদ্ধি শুরু করে। এলাকার সাধারণ মানুষদের ৩ কেজি, ৫ কেজি এমনকি ১০ কেজি পর্যন্ত লবণ কিনতে দেখা গেছে। অনেক অসাধু ব্যবসায়ী লবণ মজুদের অজুহাত দেখিয়ে চড়া মূল্যে বিক্রিও করেছেন।

সহিদুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে লবণের চাহিদা ব্যাপক। গত ৬ মাসেও এমন লবণ বিক্রি হয়নি। আমি প্যাকেটের মূল্য অনুযায়ী গ্রাহকদের কাছ থেকে লবণের দাম নিচ্ছি। বাকিদের বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে লবণ সংকট হবে এমন একটা গুজব ছড়ানোর ফলে এই প্রভাব পড়েছে।

সদর থানার ওসি আশিকুর রহমান বলেন, সদর উপজেলার প্রত্যেকটি হাট-বাজারে পুলিশের মোবাইল টিম কাজ করছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেকটি হাট বাজারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বাজার মনিটরিং করার জন্য মাঠে নেমেছে। যারা ক্রেতাদের কাছে অতিরিক্ত মূল্যে লবণ বিক্রি করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে লবণের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝর।

এছারাও ঠাকুরগাঁও শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই দুই ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার করে এক লাখ টাকা জরিমানাসহ অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদ›ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহাগ চন্দ্র সাহা।

কারাদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সিরাজ স্টোরের মালিক সিরাজুল ইসলাম ও আইয়ুব স্টোরের মালিক আইয়ুব আলী।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহাগ চন্দ্র সাহা জানান, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্য তালিকা না থাকা ও অধিক মূল্যে লবণ বিক্রির অপরাধে দুই দোকানদারকে ৭ দিনের কারাদন্ড দেয়া হয়।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড কে এম কামরুজ্জামান সেলিম সামাজিক বলেন , লবণসহ সকল নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। হাট বাজার সহ জেলার সকল স্থানে আমাদের জেলা প্রশাসনের সদস্যরা কাজ করছে । কেউ গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। #