লবণ সংকটের গুজব ঠেকাতে সারাদেশে অভিযান


অনলাইন ডেস্ক : লবণ সংকটের গুজব ঠেকাতে বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বেশি দামে বিক্রি করায় রাজশাহী ও নেত্রকোণায় ৪ ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। জরিমানাও করা হয়েছে কয়েকজনকে।

দেশে লবনের যথেষ্ট মজুদ আছে। দাম বৃদ্ধি পাবার কোন কারণ নেই। বাজারে অহেতুক অস্থিরতা সৃষ্টি করবেন না। প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, অফিসার ইনচার্জ সৈয়দপুর থানা।

আজ ১৯ নভেম্বর বিকাল ৩ ঘটিকায় পার্বতীপুরে লবনের দাম বেড়েছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে পার্বতীপুর শহরে। প্রতি কেজি লবনের দাম ১০০-১২০ টাকা হয়ে গেছে এমন গুজব ছড়াচ্ছে একটি অসাধু চক্র। গুজবটি এলাকায় প্রচার হলে মুদির দোকানগুলোতে লবন বিক্রির হিড়িক পড়েছে। পার্বতীপুর শহরের নতুন বাজার এলাকায় কয়েকটি দোকান ঘুরে জানা যায়, লবনের কোন সংকট নেই। মুদি ব্যবসায়ী, আব্দুস সালাম জানান, লবনের কোন সংকট নেই বা দামও বাড়েনি। কিন্তু ক্রেতারা পূর্বের থেকে অনেক বেশী পরিমাণ লবন কিনতেছে। এ বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না।

দিনাজপুরে লবণ সংকটের গুজবে বিকেলে ভিড় বাড়ে বিভিন্ন দোকানে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। হিলিতে বেশি দামে লবন বিক্রি করায় ৩ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ে লবনের দাম বৃদ্ধির গু’জব ও অতিরিক্ত দামে লবন বিক্রির অপরাধে দুই ব্যবসায়ীকে আটক এবং একলক্ষ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্য’মাণ আ’দালত। দুপুরে জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিমের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন বাজারে অভি’যান চালানো হয়। এসময় ক্রেতাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শহরের পুরাতন বাস স্ট্যান্ড বাজার, কালিবাড়ি বাজার থেকে দুই লবন ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে আট’ক করে একলক্ষ টাকা জরি’মানা করা হয়।

পরে ভ্রাম্য’মাণ আদালত রোডকাচাঁবাজার,বড়খোচাবাড়ি ও ভুল্লি বাজারে অভি’যান চালায় এবং ব্যাবসায়িদের তাদের দোকানে বিক্রয় তালিকা মূল্য ও মজুদ পণ্যের তালিকা টাঙ্গানোর নির্দেশ দেন। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম, সদর থানার ওসি আশিকুর রহমান, ওসি অপারেশন গোলাম মর্তুজা, হারুনর রশিদ সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত দাম না দিয়ে, লবণের প্যাকেটের গায়ে এমআরপি রেট দেখে কেনার পরামর্শ দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি পরিতোষ ক্রান্তি সাহা। দেশে লবণের কোনো সংকট নাই বলেও মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) জানান তিনি। পরিতোষ ক্রান্তি সাহা বলেন, দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। যথেষ্ট পরিমাণ লবণ মজুদ আছে। অতিরিক্ত দাম না দিয়ে, লবণের প্যাকেটের গায়ে এমআরপি রেট দেখে কিনুন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গুজব প্রতিরোধে মাঠে নেমেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রতি কেজি লবন ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে কি না সে বিষয়ে খোঁজ নেন তারা।

নেত্রকোণায় বেশি দামে লবন বিক্রি করায় খালিয়াজুরীতে আটক করা হয় ১ জনকে। আর কেন্দুয়ায় ৩ জনকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া, রাজশাহীতে বেশি দামে লবন বিক্রি করায় আটক করা হয়েছে ৩ জনকে।

সিলেট ও হবিগঞ্জে লবণের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টায় ছড়ানো হয় গুজব। মানুষ পেঁয়াজের মতো লবণের দামও বাড়বে এমন আশঙ্কায় মুদি দোকানে ভিড় জমাতে থাকেন। এ সুযোগে অতিরিক্ত দামে ব্যবসায়ীরা লবণ বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসির আরাফাত জানান, গতকাল সোমবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকেই হবিগঞ্জ শহরসহ আশেপাশের এলাকায় গুজব ছড়ানো হয় লবনের দাম বৃদ্ধির।

এ ঘটনায় লবণ মজুদের চেষ্টার অভিযোগে চৌধুরী বাজার এলাকা থেকে ৪জনকে আটক করে ২জনকে ১০দিনের কারাদণ্ড এবং ২জনকে অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

একই গুজব ছড়িয়ে পড়ে সুনামগঞ্জেও। এরপর জেলার অনেক জায়গায় লবণ বিক্রি বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা।

দাম বেশি রাখার অভিযোগে ছাতকে দুই ব্যবসায়ীকে ২০হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) শহরের ৯নং ওয়ার্ডের কালিকাপুর এলাকার সুলতান মিরা এবং আউলিপুর এলাকার জাকারিয়া শিকদারকে ২০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবর রহমান শহরের নিউ মার্কেট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন। গুজব প্রতিরোধে এ অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। বরং চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় কোনো ধরনের গুজবে কান না দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। #