সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় তীব্র জনবল সঙ্কটে

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদাতা : সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা জনবল সংকটে কোচ ও ওয়াগন মেরামত সংকুচিত হচ্ছে। ফলে যে কোনো সময় মুখ থুবড়ে পড়তে পারে রেলওয়ের উত্পাদন ব্যবস্থাপনা। এমন আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, বর্তমানে রেলবহরে কোচের সংখ্যা ৭৪৯টি। এর মধ্যে ব্রডগেজ (বড়ো) লাইনের ৪৬৪টি ও মিটার গেজ (ছোটো) লাইনের কোচ রয়েছে ২৮১টি। এছাড়া মালবাহী ও তেলবাহী ওয়াগন রয়েছে ৯৫৬টি। এসব মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ হয়ে থাকে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়। অথচ ঐ কারখানায় লোকবল সংকট তীব্র হচ্ছে।

কারখানা সূত্র জানায়, ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐ কারখানায় একসময় লোকবল ছিল প্রায় ১২ হাজার। বর্তমানে ২ হাজার ৮৩৪ জন লোকবলের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৯০৯ জন। ঐ অল্পসংখ্যক লোকবল দিয়ে পরিচালনা হচ্ছে দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানার ২৮টি উপকারখানা (শপ)। এসব শপে উত্পাদন হচ্ছে ১২ হাজার ধরনের যন্ত্রাংশ। সঙ্গে প্রতিদিন গড়ে দুইটি করে কোচ ও ওয়াগন মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে কারখানাটিতে।

রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন কারখানা শাখার সম্পাদক শেখ রোবায়তুর রহমান জানান, লোকবল সংকট নিরসনে আমরা বার বার কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে আসছি। অন্যান্য ট্রেড ইউনিয়নগুলোও একই দাবি করে আসছে। দ্রুত এর সমাধান করা না হলে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উত্পাদন ব্যবস্থাপনা মুখ থুবড়ে পড়বে। তিনি জানান, রেল বহরের নতুন নতুন ট্রেন যুক্ত হচ্ছে। যাত্রী পরিবহনও বাড়ছে। এসব ট্রেনের কোচগুলো প্রতিবছর মেরামতের জন্য সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় আনা হবে। লোকবল কম থাকলে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ পড়বে ঝুঁকিতে।

জানতে চাইলে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় মো. জয়দুল ইসলাম জানান, গত অক্টোবর মাসে কারখানাটির জন্য ৬০০ শিক্ষানবিশ (ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিস ) ও ২৯৪ জন খালাসি (শ্রমিক) চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যা কেটে যাবে। #
সুত্র: https://www.ekushey-tv.com