নড়াইলে নবগঙ্গা নদীর বর্তমান অবস্থান ঠিক রেখে পুনঃখননের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত নবগঙ্গা নদীর বর্তমান অবস্থান ঠিক রেখে পুনঃখননের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে সাড়ে ৮ হাজার ভূমিহীন-দরিদ্র কৃষক পরিবারের লোকেরা। শুক্রবার(২৯ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় কলাগাছি- মাইগ্রাম ব্রীজ পাশর্^বর্তী গুচ্ছগ্রাম মাঠে ভূমিহীন ও কৃষক শ্রেনির মনুষেরা মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করে।

আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নড়াইলের অধীন মহাজন থেকে নলদী পর্যন্ত দ্রত নবগঙ্গা নদীর খনন কাজ শুরু হবে। খনন কাজ শুরুর জন্যে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ নদীর সীমানা নির্ধারণ কাজ সম্পন্ন করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ি নদী খনন করলে সাড়ে ৮ হাজার দরিদ্র পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তাই শুক্রবার বিকালে নবগঙ্গা নদীর বর্তমান অবস্থান ঠিক রেখে পুনঃখননের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে এলাকার মানুষ।

বক্তারা জানান, নদীর বর্তমান অবস্থানের বাহিরে অর্থাৎ পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্ধারিত স্থান পর্যন্ত নদী খনন করলে ১০টি মসজিদ, ৫টি কবরস্থান, ৩টি শ^শান, ৫টি মন্দির, ২টি ক্লাব, ৯টি ব্রীজ সহ সাড়ে ৮ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হবে। আরএস রেকর্ড অনুয়ায়ি দেড় হাজার ভূমিহীনের নিজের জমিও নদীতে যাবে। নদীর পাড়ে সরকারিভাবে বন্দোবস্ত নেয়া পরিবারগুলোও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। নদীর তীরে মহাজন গুচ্ছগ্রামে ৮৮টি পরিবার, মাইগ্রাম আশ্রয়ন প্রকল্পে ৭০টি পরিবার ও বড়দিয়া আশ্রয়ন প্রকল্পে ৩৭০টি পরিবার বসবাস করছে। এসব পরিবার জমি ও গৃহহীন হয়ে পড়বে।

বিশিষ্ট সমাজসেবক নবীর হোসেন মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি এ্যাডঃ নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ আমিরুল ইসলাম, এ্যাডঃ আব্দুস ছালাম খান, এ্যাডঃ আকরামুল ইসলাম আকরাম, অধ্যাপক ফরিদ আহম্মেদ মিঠু, অধ্যাপক বেলাল সানি, সাথী তালুকদার, সৈয়দ খায়রুল আলম, শেখ লায়েক আলী, মহসিন মোল্যা, বিল্লাল খন্দকার, সজল আহম্মদ টুলু, বরকত খন্দকার প্রমুখ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ নেওয়াজ তালুকদার বলেন, সরকারি এ প্রকল্পটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একনেকের সভায় পাশ হয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে নদীর সীমানা নির্ধারণ করেছি। টেন্ডার এখনো হয়নি। তিনশত কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। জেলাপ্রশাসক সহ স্থানীয় প্রশাসন ও আমরা পরিদর্শন করেই খনন কাজ শুরু করবো। সাধারণ মানুষ বা ভূমিহীনরা যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় চেষ্টা করবো।