আগামীকাল রোববার সারাদেশে বিএনপির বিক্ষোভ


নিউজ ডেস্ক : কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আগামীকাল রোববার ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।

রাজধানীর নয়াপল্টনে শনিবার দুপুরে যৌথসভা শেষে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ সময় তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। দেশের জনগণ জেগে উঠেছে। যে কোনো সময় সরকারের পতন অনিবার্য। অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দিন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মনোভাব দেখলে মনে হয় তারাই একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের ঠিকাদার। অথচ মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্র তারা সেটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা যে গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছি সে স্বপ্ন তারা শেষ করে দিয়েছে। যে দলটি মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের হাতেই বারবার মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে। তারা ৭৫ সালে বাকশাল কায়েম করেছে সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করেছে। আবার ২০০৮ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া ক্ষমতা দখল করে আছে বন্দুকের জোরে।’

তিনি বলেন, ‘যে নেত্রী সারাজীবন গণতন্ত্র ও মানুষের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে তাকে মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে আটক করে রেখেছে। ১৯৭১ সালে এই বেগম খালেদা জিয়া পাক বাহিনীর হাতে বন্দী হয়েছিলেন।

পুলিশ ও র‌্যাবকে দিয়ে ভয় দেখানোর জন্য তাদেরকে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়ার জামিন না দেয়ার পর যখন আমাদের আইনজীবীরা জামিনের দাবিতে অবস্থান করেছে, তখন সরকারি দলের নেতা ও মন্ত্রীরা বলেছেন আইনজীবীদের তাণ্ডব ক্ষমার অযোগ্য। অথচ তারা কি তাদের পেছন দিকে তাকিয়ে দেখেছে? তারা যেভাবে প্রধান বিচারপতির এজলাস ভেঙেছে, বিচারপতিদের কামরা ভাঙচুর করে আদালতে লাঠি-মিছিল করেছে। হাইকোর্টে বস্তি বসিয়েছে। এসব কি জনগণকে মনে করিয়ে দিতে হবে? বিএনপির আইনজীবীরা দাবি জানিয়ে যদি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করে থাকে তাহলে আপনারা ক্ষমা পেলেন কি করে।’

তিনি বলেন, ‘অতি দ্রুত খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। না হলে দেশের জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না। আপনারাই ক্ষমার অযোগ্য হবেন। দেয়ালের লেখাগুলো পড়ুন, জনগণের ভাষা বুঝুন। আপনারা তো উন্নয়ন উন্নয়ন করেন, অথচ পেয়াজের দাম তো কমেই নাই উল্টো বেড়েই চলছে। আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দানবদের পরাজিত করতে হবে। একাত্তরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আমরা স্বাধীনতার মাসে শপথ নিয়ে এ দানবকে পরাজিত করতে পারি। ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না। দেশের মানুষ জেগে উঠেছে। ঐক্যবদ্ধ হয়েছে৷ এ সরকার গোটা দেশটাকে শেষ করে দিয়েছে। পত্রিকায় দেখি সব কিছুর সূচক নিচের দিকে। সরকার টাকা পাচারের কথা বলে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খাইরুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

এদিকে শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস ও বিজয় দিবস পালনে বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিএনপি। কর্মসূচি গুলো হলো- বিজয় দিবস উপলক্ষে নয়াপল্টনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সারাদেশেও একই কর্মসূচি পালন হবে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা।

এছাড়া একটি আলোচনা সভা করা হবে যার সময় তারিখ পরে জানানো হবে। আর ১৭ ডিসেম্বর র‌্যালি করা হবে। গুলশানে খালেদা জিয়ার কার্যালয় ও নয়াপল্টন অফিসে আলোকসজ্জা করা হবে।

এছাড়া সব অঙ্গ সংগঠন নিজ নিজ কর্মসূচি পালন করবে। আর মুক্তিযোদ্ধা দল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে আলোচনা সভা করবে।

বুদ্ধিজীবী দিবসের কর্মসূচির মাঝে রয়েছে নয়াপল্টন ও সারা দেশের কার্যালয়ে দলীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে, ১৫ তারিখ সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে আলোচনা সভা। এছাড়া অঙ্গ সংগঠনগুলো নিজ নিজ সুবিধা মত কর্মসূচি পালন করবে। সারাদেশে জেলা ও মহানগরে ও একই কর্মসূচি পালন করবে। #