লোহাগড়ায় হানাদার মুক্ত দিবস পালিত


নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলের লোহাগড়া থানা হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপন উপলক্ষে রবিবার নানা কর্মসূচী পালিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে রবিবার সকালে লোহাগড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে প্রথমে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, পতাকা উত্তোলন, শহীদদের কবর জিয়ারত করা হয়। এর পরে শহরে র‌্যালি বের হয় ও আলোচনাসভা, দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। লোহাগড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে ইউএনও মুকুল কুমার মৈত্র এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্যে রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ রানা, ওসি(তদন্ত) আমানুল্লাহ আল বারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ শামসুল আলম কচি, জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুন্সী আলাউদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর সহকারী কমান্ডার(দপ্তর) শেখ আঃ হান্নান প্রমুখ।

ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় যে,মুক্তিযুদ্ধে লোহাগড়া ছিল ৮ নম্বর সেক্টরের অধীন। ১৯৭১ সালের নভেম্বরের শুরুতেই লোহাগড়া থানার অধিকাংশ এলাকা হানাদার মুক্ত হয়। এসময় স্থানীয় রাজাকাররা থানায় আশ্রয় নেয়। পুলিশ ও রাজাকার মিলে সেখানে অস্ত্রের মজুদ গড়ে তোলে। তাই মধ্য নভেম্বরে মুক্তিযোদ্ধারা থানা আক্রমনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে। এজন্যে তৎকালীন থানা মুজিব বাহিনীর প্রধান শরীফ খসরুজ্জামানের উপস্থিতিতে ২ডিসেম্বর আড়পাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা বাবু মীরের বাড়িতে গোপন বেঠক অনুষ্ঠিত হয়। একই সাথে বীর মুক্তিযোদ্ধা মাকড়াইলের কবির হোসেন ও তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ ইউনুস আলীর নেতৃত্বে লুৎফর বিশ^াস, আব্দুল কাদের শেখ, আবুল হোসেন খোকন সহ ৪০/৪৫ জনের মুক্তিযোদ্ধা দল গোপন বৈঠকের মাধ্যমে লোহাগড়া থানা আক্রমনের সিদ্ধান্ত নেয়। ৮ ডিসেম্বর ফজরের আযানের পর ভোর ৫ টার দিকে তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ ইউনুস আলী, থানা মুজিব বাহিনীর প্রধান শরীফ খসরুজ্জামান, কবির হোসেনের নেতৃত্বে প্রায় দু’শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা থানা আক্রমন করেন। ৫ ঘন্টা ব্যাপী এ যুদ্ধ চলাকালে থানা অভ্যন্তরে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন কোলা গ্রামের হাবিবুর রহমান ও যশোর সদর উপজেলার জঙ্গল-বাঁধাল গ্রামের মোস্তফা কামাল। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানকে লোহাগড়া থানা চত্বরে কবর দেওয়া হয় আর মোস্তফা কামালকে ইতনা স্কুল চত্বরে কবর দেওয়া হয়। #