বীরের কণ্ঠে বীরগাঁথা : কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীন’র ব্যতিক্রমী উদ্যোগ


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঘটনাকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার মুক্তিযুদ্ধের ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির আপাতত কোন পরিকল্পনা নেই। তবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের বক্তব্য অডিও ভিডিও রেকর্ড করে সংরক্ষণের নিমিত্তে ‘বীরের কণ্ঠে বীরগাঁথা’ নামক একটি কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন কুড়িগ্রামের ডিসি মোছাঃ সুলতানা পারভীন।

চলতি বছরেই ডিসি মোছাঃ সুলতানা পারভীন আলোচিত ও প্রশংসিত আরেকটি কর্মসূচি সাফল্যের সংগেই শেষ করেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দুই হাতের স্পর্শের ছাপ, তাদের তথ্যসহ ছবি, স্বহস্তে স্বাক্ষর সংকলনের মাধ্যমে একটি ডকুমেন্টারি ‘বীরগাঁথা’ তৈরি করে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে ডকুমেন্টারির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ‘বীরগাঁথা’ ডকুমেন্টারিতে জেলার তালিকাভুক্ত ২৭৩০ জন জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধার দুই হাতের ছাপসহ তাদের তথ্য এবং ১৫৭১ জন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার তথ্যসহ মোট ৪২৭৩ জন মুক্তিযোদ্ধার তথ্য সংরক্ষিত আছে।
বিজয়ের মাসে কুড়িগ্রামের ডিসি মোছাঃ সুলতানা পারভীন এবারে শুরু করলেন ‘বীরের কণ্ঠে বীরগাঁথা’, মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বীরত্বের কাহিনী। যুদ্ধ দিনের গল্পকথা শোনা যাবে এবার মুক্তিযোদ্ধাদের স্বকণ্ঠে, প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের রিসোর্স সেন্টার ‘স্বপ্নকুঁড়ি’তে তিন দিনব্যাপী এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিসি মোছাঃ সুলতানা পারভীন। এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক (সার্বিক ) মোঃ হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জিলুফা সুলতানা, জেলা আওয়ামীলীগ এর সদ্য সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মন্ডল, সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের ৩ দিনে ৪৫ জন মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতা ৭১ এর যুদ্ধকথায় হারিয়ে গিয়েছিলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব গাথার মধ্যে চলে এসেছে, আবেগ, কান্না, প্রিয় সাথী হারানোর বেদনা। মহান মুক্তিযুদ্ধে সহযোদ্ধাদের নির্মম মৃত্যকাহিনী পুরো ধারা বর্ণনায় অনেকের চোখে নোনা জল ঝরেছে, কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অনেক মুক্তিযোদ্ধা। অনেক দর্শক শ্রোতারাও কেঁদেছেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায় এতদিন তারা পাঠ্য বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়েছে। এখন সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের মুখে রণাঙ্গনের যুদ্ধকথায় তারা যেন সরাসরি যুদ্ধ দেখতে পেয়েছে। কিশোর তরুণ তরুণীরা বীরের কণ্ঠে বীরগাঁথা শুনে শিহরিত ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে।
অনেক মুক্তিযোদ্ধারাই ডিসি মোছাঃ সুলতানা পারভীন’র এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, অনেক মুক্তিযোদ্ধা কালের স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছেন। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সেলুলয়েডের ফিতায় কিংবদন্তীদের যুদ্ধদিনের স্মৃতি কথা একসময় দেশের সঠিক ও শ্রেষ্ঠ ইতিহাস সৃষ্টিতে প্রধান ভূমিকা রাখবে। সকল বক্তা মুক্তিযোদ্ধারা এমন মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করায় ডিসি সুলতানা পারভীন’র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও প্রশংসা করেন।
জেলা প্রশাসক মোছাঃ সুলতানা পারভীন এই ব্যতিক্রমী কর্মযজ্ঞের সূচনা বক্তব্যে বলেন যে, মুক্তিযোদ্ধারা সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের স্মৃতি ধরে রাখতে প্রথমে তালিকাভুক্ত ২৭৩০ জন জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধার দুই হাতের ছাপসহ তাঁদের তথ্য সগ্রহ করা হয়েছে। এবারে প্রামাণ্য চিত্রের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের কণ্ঠ থেকে যুদ্ধের বর্ণনা সংরক্ষণ করা হবে। এ বর্ণনার স্বাক্ষী হয়ে থাকবে বিভিন্ন স্কুলের ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা। এরপরে ইউনিয়ন ভিত্তিক এ কর্মসূচি ছড়িয়ে দেয়া হবে । #