যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ নিয়ে খগেন চন্দ্র স্বাবলম্বি

শাহাজুল ইসলাম : দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ১০ নং হরিরামপুর ইউনিয়নের দলাইকোটা গ্রামের খগেন চন্দ্র যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন স্বাবলম্বি। ২৭ বছর আগের কথা উপজেলা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে নিভৃত পল্লী দলাই কোটা নামক গ্রাম। সে গ্রামের একজন বেকার যুবক ছিলেন খগেন চন্দ্র দেবনাথ। উপজেলা শহরে যেতে কোন পাকা রাস্তা ছিল না। ছিলনা কোন যানবাহন। পায়ে হেঁটে কিংবা বাই-সাইকেলে করে উপজেলা শহরে আসতে হতো। খগেন চন্দ্র ১৯৮৮ সালে দলাইকোটা দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। তার পিতা যতিন চন্দ্র দেবনাথ ছিলেন দরিদ্র কৃষক। তার চার ছেলের লেখা পড়ার খরচ চালাতে অক্ষম হওয়ায় খগেন চন্দ্রকে কলেজে পড়ানোর মত তার পিতার সামর্থ ছিল না। লেখাপড়া বাদ দিয়ে পাশের আনন্দ বাজারে ছোট্ট মুদি দোকান করতেন তিনি। তাতে তেমন লাভ হতো না। এভাবে প্রায় চার বছর কেটে যায়। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যে তিনি স্থানীয় এক বড় ভাইয়ের পরামর্শ ও সহযোগিতায় একদিন একই বাই-সাইকেলে চড়ে দু’জনেই পাড়ি দেন উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে। সেখানে তিনি আবেদন করলে পার্বতীপুর যুব উন্নয়ন অফিসে ২৭ জন প্রার্থীর পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় এবং একমাত্র খগেন চন্দ্র নির্বাচিত হলে সেখানকার তৎকালীন পার্বতীপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার আকবর আল-মামুন তাকে রাজশাহী যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠান। সেখানে গিয়ে ১৯৯২ সালের মে-জুন মেয়াদে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগী পালন এবং উহার প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক তিন মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন খগেন চন্দ্র। প্রশিক্ষণ নিয়ে এসে তিনি নিজ বাড়িতে ছোট আকারে হাঁস-মুরগীর খামার গড়ে তোলেন এবং এলাকায় গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগীর চিকিৎসা শুরু করেন। আস্তে আস্তে তার চিকিৎসায় সুফল পেয়ে এলাকার মানুষ তাকে কল করে এবং পশু চিকিৎসা গ্রহন করে। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা প্রদানে তার হাত যশ বাড়ে। এলাকায় তিনি এখন খগেন ডাক্তার নামে পরিচিত। খগেন ডাক্তার বলেন, নিজ এলাকা ছাড়াও পাশ^বর্তী বদরগঞ্জ ও নবাব গঞ্জ উপজেলার কিছু এলাকা থেকেও তিনি কল পেয়ে থাকেন এবং সেসব এলাকায় গিয়ে তিনি পশু চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তিনি এ পেশায় থেকে দারিদ্রতাকে দূরে ঠেলে দিয়ে এখন স্বচ্ছলভাবে দিন যাপন করছেন বলে জানান। তিনি পশু চিকিৎসা দিয়ে যে উপার্জন করেন এবং বাড়িতে হাঁস-মুরগী ও দু-তিনটি গরু-ছাগল পালন করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালিয়ে একটি লিচু বাগান সহ ৬৭ শতক জমি কিনেছেন এবং ছোট একটি বাড়ি করেছেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন আর ছেলে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন। তিনি আরও বলেন, আমার স্বপ্ন নিজ গ্রামে একটি পশু চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে তুলব। কিন্তু অর্থাভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সহযোগিতা পেলে আমার স্বপ্ন পূরণ হতো এবং এ এলাকার মানুষ গবাদি পশুর চিকিৎসা ভালভাবে পেত।