বিশ্বে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হলে শিশুদের সুশিক্ষিত করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


নিউজ ডেস্ক : প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষা সময়মতো অনুষ্ঠিত হবে এবং ফলাফলও সময়মতো প্রকাশ করা হবে -এমন দৃঢ়তা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা কোনো সেশনজট রাখব না। সেশনজট থাকলে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় অমনোযোগ চলে আসে।’

আজ মঙ্গলবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভালো ফলাফল করতে হলে আমাদের শিশুদের আরও মনোযোগী হতে হবে। ভবিষ্যতে যেন ফলাফল আরও ভালো হয়, সেজন্য মন দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে।’

সরকার বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের বই দেওয়াসহ বৃত্তি প্রদান করছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, উন্নত এবং সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। আমরা এমন একটি সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যেখানে থাকবে না কোনো দরিদ্রতা, বৈষম্য। থাকবে উন্নত সমাজ ব্যবস্থা।’

শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষিত জাতি ছাড়া সম্মানের সঙ্গে কেউ বাঁচতে পারে না। বিশ্বে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হলে সমাজকে সুশিক্ষিত করতে হবে।

এ সময় পড়াশোনার পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সারাক্ষণ শুধু পড় পড় করলে ছোট ছেলেমেয়েদের ভালো লাগে না। খেলাধুলার মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করবেন। এখন আমরা সাড়ে তিন হাজার ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড পৌঁছে দিয়েছি। মাল্টিমিডিয়া ক্লাস হচ্ছে। এই সমস্ত ক্লাসের মাধ্যমে তাদেরকে নতুন প্রযুক্তিতে শিক্ষা দিন।’

শিক্ষাকে আরও আধুনিক, উন্নত এবং বিজ্ঞানসম্মত করতে চান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু সাধারণ শিক্ষা নয়, কারিগরি শিক্ষাকে আমরা গুরুত্ব দিতে চাই। যাতে একজন ছেলেমেয়ে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজেরা কিছু করতে পারে।’

প্রাথমিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমরাও ২৬ হাজার প্রাথমিক স্কুলকে সরকারিকরণ করেছি। যেখানে স্কুল নেই সেখানে আমরা স্কুল করারও ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। গরিব বাবা-মার ওপর যেন চাপ না পড়ে, সেজন্য আমরা বছরের শুরুতেই বই দিচ্ছি।’ পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই ফল প্রকাশ করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান শেখ প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে, শিক্ষাবর্ষের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সারা দেশে বই উৎসব উদযাপন করা হবে আগামী ১ জানুয়ারি।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।#