খাদ্যদ্রব্যে ক্ষতিকর ফরমালিন ব্যবহার গণহত্যার শামিল : রাষ্ট্রপতি এম. আবদুল হামিদ


অনলাইন ডেস্ক : রাষ্ট্রপতি এম. আবদুল হামিদ শাক সবজি, ফলমূলসহ খাদ্য দ্রব্যে ফরমালিন ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানোর বিরুদ্ধে সরকার, সামাজিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে গণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন।

আবদুল হামিদ বলেন, ফলমূল শাকসবজি ও নানা খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিন ও বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে প্রতিবছর অনেক লোক ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এটা এক ধরনের গণহত্যার শামিল। এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাতারাতি বড় লোক হওয়ার জন্য এসব কাজ করছে। তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট এর তৃতীয় সমাবর্তনে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপ্রধান সরকার, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ শিক্ষার্থীদের এ ব্যাপারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, মানুষকে এবং খাদ্যদ্রব্যের ব্যাপারে মোটিভেশন দিতে হবে।

রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, সরকারের ও উচিত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া। এটা যদি না হয় তাহলে আমরা জাতি হিসেবে পঙ্গু হয়ে যাবো।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ-মাদ্রাসাসহ সকল ছাত্র-ছাত্রীদেরকে রাস্তাঘাটসহ সর্বত্র পরিষ্কার পরিছন্নতা অভিযানের ব্যাপারে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, আমাদের সকলকে দেশের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এগিয়ে আসতে হবে। কাঁধে নিতে হবে দেশ ও জাতির দায়ভার।

তিনি বলেন, আমি মনে করি তোমাদের মেধা ও শ্রমে গড়ে উঠবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পৃথিবীর সকল রাষ্ট্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিজেদের শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলছে। বাংলাদেশকেও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন ক্ষেত্র বিশেষে নিত্য নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন। এর প্রসারের উপরই নির্ভর করে দেশের সমৃদ্ধি। তিনি বলেন, বিশ্বায়নের এ যুগে রাষ্ট্র ও জনগণের চাহিদা মোকাবেলায় প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিতরণ তথ্য প্রযুক্তিতে সক্ষমতার উন্নয়নকে আজ দেশের আপামর জনসাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি আশা করেন, শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান মানব কল্যাণে কাজে লাগবে। জ্ঞানকে কর্ম ও মানবমুক্তির হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে। এই জ্ঞান শুধু যে নিজের চাকরি বা অন্য যে কোন চাকরি করতে ব্যবহার করবে এটা জাতি প্রত্যাশা করে না। তোমরা নিজেরা চাকরির নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে। তোমাদের তৈরি করা ক্ষেত্রের মাধ্যমে দেশের বেকারত্ব নিরসন ঘটবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে হামিদ বলেন বিশ্ববিদ্যালয়টি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধের মহান আদর্শে অনুপ্রাণিত ও জঙ্গি ও মৌলবাদ মুক্ত বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলার নেপথ্যে ভূমিকা রেখে ভবিষ্যতে তার সুনাম অক্ষুন্ন রাখবে।

তিনি শিক্ষকমন্ডলীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা জাতির বাতিঘর। আপনাদের মেধাশ্রম ও ভালোবাসায় তৈরি হয় তরুণ প্রজন্ম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলে পৃথিবীর তাবৎ জ্ঞানের দরজা খুলে মানবজাতির কল্যাণ ও অগ্রগতির পথ দেখাব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও লেখক অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

সমাবর্তনে ৬ হাজার ৭শ’৫০জন শিক্ষার্থী সনদ পত্র গ্রহণের জন্য নাম নিবন্ধন করে। পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্যের জন্য ২০ জন শিক্ষার্থীকে ‘রাষ্ট্রপতি স্বর্ণ পদক’ প্রদান করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগে প্রথম স্থান অধিকারী ৮৯ জন শিক্ষার্থীকে ‘ভাইস চান্সেলর পুরস্কার’ প্রদান করা হয়।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্য, রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবগণ, পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। # বাসস