ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি ঢাবি শিক্ষক সমিতির


অনলাইন ডেস্ক : একজন রাজাকার ও ধর্ষকের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। রাজাকারের যদি মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে ফাঁসি হয়, তাহলে ধর্ষকেরও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।

এসময় তিনি নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রচলিত আইন সংস্কারের করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, মুজিববর্ষে আমাদের শপথ হোক দেশ হবে ধর্ষকমুক্ত। দেশকে ধর্ষকমুক্ত করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব এবং সরকারকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে গোলটেবিল বৈঠক করে আইন সংস্কারের সুপারিশ করব।

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে বুধবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ দাবি জানান।

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আমাদের সন্তানতুল্য একজন শিক্ষার্থী পাশবিক ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনায় আমরা ব্যথিত।

দেশে এ ধরনের ঘটনায় অনেক মা-বোন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, এধরনের অমানবিক অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। আইনের যদি কোনো ফাঁক-ফোকর থাকে,তাহলে যেন আইন সংস্কার করে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বিধান করা হয়। যাতে আর কোনো মা-বোনকে ধর্ষণের শিকার হতে না হয়।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। ওই ছাত্রীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আমরা ঘটনার পরপরই বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার ছিলাম। এখন ওই মেয়েটির শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। নারী-পুরুষ ও অভিভাবকসহ সকলের জন্য কাউন্সিলিং প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি ।

বিএনপি-জামায়াত সমর্থক সাদা প্যানেল থেকে নির্বাচিত শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন,“এই ধরনের ঘটনায় আমরা সবসময় লক্ষ্য করি, একসময় না একসময় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও তারা আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে বেরিয়ে আসছে। শুধু বেরিয়ে এসেই ক্ষান্ত হয়নি, যাকে নির্যাতন করা হয়েছে তাকে এবং তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে আবার হুমকিও দেওয়া হয়।”

মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিজামুল হক ভূইয়ার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন,সাবেক প্রোক্টর ড. আমজাদ আলী, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক হুমায়ুন কবির, ইতিহাস বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক শরিফুল্লাহ ভূইয়া, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, কুয়েতমৈত্রী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিন প্রমুখ। #