গাইবান্ধা জেলা আইন শৃংখলা কমিটি সভা অনুষ্ঠিত


গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলা আইন শৃংখলা কমিটি ও আইন শৃংখলা বিষয়ক অন্যান্য মাসিক সভা রোববার জেলা কালেক্টরেট সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মতিন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোছা. জেবুন নাহার গত সভার কার্যবিবরণী উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা: এবিএম আবু হানিফ, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এনএসআইএর উপ-পরিচালক, গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবের সভাপতি কেএম রেজাউল হক, সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সাবু, গাইবান্ধা র‌্যাব ক্যাম্প ইনচার্জ, জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারি পরিচালক কর্মকর্তা মাছুম আলী, জেলা মার্কেটিং অফিসার, জেলা মাদক নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তা, উপ-পরিচালক মহিলা অধিদপ্তর, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, বিআরটিএ কর্মকর্তা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, বিজিবি রংপুর প্রতিনিধি, জেলা ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক, জেলা মটর মালিক সমিতির সভাপতি কাজী মকবুল হোসেনসহ সরকারি কর্মকর্তারা প্রমুখ।

জেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ, শীতার্ত শিশুদের মধ্যে শীতবস্ত্র ও শিশু খাদ্য বিতরণ, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পর্যায়ে দ্রুততম সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ গাড়ির লাইসেন্স প্রদানের উপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া জেলা শহরের যানজট নিরসন, বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় যানজট নিরসন রোধে ষ্ট্যান্ড থেকে যাত্রাবাহি বাস বের হয়ে কোথাও কোথাও না দাঁড়িয়ে সরাসরি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। জেলা শহরে ৬৬ ফুট ফোরলেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কল্পে এ মাসের ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি সড়ক সংলগ্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির মালিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে এবং ফেব্র“য়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে সড়কের দু’পাশে উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। সভায় আরও উলেখ করা হয়, লাইসেন্স বিহীন ওষুধের দোকানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ভেজাল কসমেটিকস্ প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন, মাদক সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিচার ব্যবস্থা দীর্ঘ শক্তিতা পরিহার করে দ্রুত বিচার সম্পন্ন এবং গাইবান্ধায় মাদক নিরামক কেন্দ্র স্থাপন, চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা, ভ্রাম্যমান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ পিরানহা ও আফ্রিকান মাগুড় মাছ চাষ বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ সহ জেলার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’ এই শোগান বাস্তবায়নে নারী ও শিশুদের সহায়তার ক্ষেত্রে এবং জিডি গ্রহণসহ সর্বক্ষেত্রে জেলার প্রতিটি থানায় জনগণকে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ি মাদক ব্যবসায়ি ও সন্ত্রাসীদের কোন পরিচয় নেই। সেজন্য এক্ষেত্রে জিরো ট্রলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে এবং দেশের উন্নয়নকে তরান্বিত করতে সার্বিক আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বক্ষণ সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি উলেখ করেন।

এছাড়াও জেলার চোরাচালান প্রতিরোধ সমন্বয় কমিটি, জেলা সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটি, জেলা পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি, জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, নারী ও শিশু পাচার সংক্রান্ত মামলাসমূহের যথাযথভাবে মনিটরিং, নারী ও শিশু পাচার সংশিষ্ট ভিকটিমদের উদ্ধার ও পুনর্বাসন কমিটি, ঔষুধের অনিয়মক প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা অ্যাকশন কমিটি, জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন ও প্রচারণা কমিটি, জেলা মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটি সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় সংশিষ্ট বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভাগুলোতে সংশিষ্ট কমিটির সদস্য, ৭টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, র‌্যাব, বিজিবি, মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, জেল সুপারসহ জেলার সকল বিভাগীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। #

গাইবান্ধা থিয়েটারের ৩২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে গুণীজন সম্মাননা ও আলোক প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠান

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার ঐতিহ্যবাহি নাট্য সংগঠন ‘গাইবান্ধা থিয়েটার’ এর ৩২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফা কর্মসূচির আওতায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ৩২টি মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। পরে জেলার তিন গুণীজনকে নাট্যকলায় অভিনয় ও নাট্যকার বিশেষ অবদানের জন্য তুলসী লাহিড়ী সম্মাননা প্রদান করা হয়। তদুপরি গাইবান্ধার প্রথম নারী সংগঠক সালমা বেগম জেলীকে থিয়েটার স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া তিন দম্পতিকে নাটকে সার্বিক অবদানের জন্য গাইবান্ধা থিয়েটার মঞ্চযুগল সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র অ্যাড. শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন আলোক প্রজ্জ্বলের উদ্বোধন করেন এবং গুণীজনদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন। গাইবান্ধা থিয়েটারের কর্মীরা প্রবীণ কর্মীরা সম্মাননা প্রাপ্ত গুণীজনদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

গুণীজনদের মধ্যে নাট্যকলায় তুলসী লাহিড়ী সম্মাননা পেলেন প্রবীণ নাট্যজন ও নাট্যাভিনেতা আশিষ কুমার টুকু, নাট্যকার ও সাহিত্যিক আবু জাফর সাবু, নাট্যজন ও নাট্যভিনেতা ফারুক শিয়র চিনু। এছাড়া নাটকে সার্বিক অবদানের জন্য গাইবান্ধা থিয়েটারের মঞ্চযুগল সম্মাননা পেলেন মোহাম্মদ আমিন ও শাহনাজ মুন্নি দম্পতি, জুলফিকার চঞ্চল ও মাহমুদা ফাহমিদা মৌসুমী দম্পতি এবং সাজু সরকার ও সাগরিকা আকতার মনা দম্পতি।

শাহ আলম বাবলুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে গুণীজনদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন আবু জাফর সাবু ও ফারুক শিয়র চিনু। অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা থিয়েটারের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহবায়ক আলমগীর কবির বাদল, ঘাগোয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও নাট্যকর্মী আমিনুর জামান রিংকু, খন্দকার সুমন। নাটকের সংলাপ উচ্চারণ করেন আরিফুল ইসলাম বাবু। কবিতা আবৃত্তি করেন পিটু রশীদ, সোহেল রানা এবং গুণীজনদের জীবন বৃত্তান্ত পাঠ করেন লতা সরকার। পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটক পরিবেশিত হয়। মমতা চাকী রচিত ‘অর্জন’ নাটকটি পরিবেশন করে গোবিন্দগঞ্জের কিশলয় ও ভোরহলো সংগঠন এবং ‘বিজয় বাংলা’ নাটকটি পরিবেশন করে গাইবান্ধার ‘অন্তরঙ্গ থিয়েটার’। সংগীত পরিবেশনায় প্রিথা ও সুরবানী সংসদের জাহিদ হাসান সবুজ, দেবী রাণী সাহা, লতা সরকার, রিংকি এবং নৃত্য পরিবেশনায় ছিল নৃত্যাঞ্জলের শিল্পীরা।

উলেখ্য, গাইবান্ধা থিয়েটারের ৩২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী দু’দফা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফা কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, জাতীয় ও সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলন এবং কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন প্রথম নারী সংগঠক সালেহা বেগম জেলী এবং প্রধান অতিথি ছিলেন গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র অ্যাড. শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আলমগীর কবির বাদল। পরে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। #

গাইবান্ধা সরকারি বালক বিদ্যালয়ের ছাত্রদের মৌলিক সমস্যা সংকট নিরসনে স্মারকলিপি প্রদান

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ে বিদ্যমান ৫ দফা সমস্যা সংকট নিরসনে রোববার সচেতন নাগরিক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে প্রধান শিক্ষক বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে দাবি সমূহের মধ্যে উলেখ করা হয়, বিদ্যালয়ের পরিস্কার টয়লেটের ব্যবস্থা নেই, নিয়মিত ক্লাশ নেয়া হয় না, ক্লাশ রুমগুলোর নিয়মিত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ব্যবস্থা না থাকায় দুর্গন্ধময় পরিবেশ বিরাজ করে, বিদ্যালয় ভবনের চারপাশে জঙ্গল এবং আবর্জনাময় পরিবেশ বিরাজ করে এবং বিদ্যালয়ের গেটে সার্বক্ষনিক বহিরাগত লোকজন বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে অনৈতিক কর্মকান্ড করে। এছাড়া এজন্য শিক্ষার্থীরা সহজেই ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে বাহিরে চলে যেতে পারে। উলেখিত কারণে বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রদের স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ বিঘিœত হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে মেধাবী ছাত্ররা অতিসহজেই বিপদগামি হবে। সুতরাং অবিলম্বে উলেখিত সমস্যা সংকট নিরসনের দাবি জানানো হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলার সচেতন নাগরিকবৃন্দের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিতে স্মাক্ষর করেন পৌরসভার প্যানেল মেয়র তানজিমুল ইসলাম পিটার, মোসফাকুর রহমান, মো.মাহাবুব হোসেন, আবুল হোসেন মৃধা, মো. ইশিদুল ইসলাম মন্ডল রনি প্রমুখ। #