২ ফেব্রুয়ারী ফুটবল যাদুকর সামাদের ৫৬তম মৃত্যু বার্ষিকী


শাহাজুল ইসলাম : ভারতীয় উপমহাদেশের চল্লিশ দশকের ক্রীড়া জগতের এক কিংবদন্তি নাম সামাদ। ফুটবলে অপূর্ব দক্ষতা ও উন্নতমানের ক্রীড়া কৌশল প্রদর্শনের জন্য তার উপাধি ছিল ফুটবল যাদুকর। ভারতের পশ্চিম বাংলার পূর্নিয়া জেলায় ১৮৯৫ সালে সামাদের জন্ম। ১৯১২ সালে সালে প্রথম কলিকাতা মেইন টাউন ক্লাবে ১৭ বছর বয়সে ফুটবল খেলা শুরু করেন। ১৯১৮ সালে এরিয়েন্স ক্লাবের সদস্য হন। ১৯২৯ সালের তাজহাট ক্লাবের পরিচালক নিযুক্ত হন। ১৯২১ সাল হতে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত ইবিআর দলে খেলেন। ১৯৩৪ সালে প্রথম ভারতীয় দলে খেলতে ইন্দেনেশিয়ার জাভায় যান। এটাই ছিল ভারতীয় দলের প্রথম বিদেশ যাত্রা। ১৯৩৬ সালে পুনরায় জাভায় যান। একই বছর সামাদ মহামেডান স্পোটিং ক্লাবের পক্ষে শিরোপা লাভ করেন।

১৯৩২ সালে অল ইন্ডিয়া ফুটবল এ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে খেলতে শ্রীলংকা যান। ১৯৩৩ সালে মহামেডান স্পোটিং ক্লাবে যোগ দেন। সে বছরই উন্নত মানের খেলার জন্য হিরো অব দ্যা গেমস সম্মান লাভ করেন। পরবর্তিতে পরপর পাঁচ বার আই এফ এ শিশু ও লীগ বিজয়ী হন। সামাদ তার জীবনের ২৩ বছর খেলায় মেতে ছিলেন। ১৯১৫ সাল থেকে ১৯৩৮ সাল ছিল তার খেলোয়াড়ী জীবন।

ফুটবল যাদুকর সামাদ ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের আগে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন এবং দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরে বসবাস শুরু করেন। তিনি ব্যক্তিগত জীবনের ছিলেন একজন রেলওয়ে কর্মকর্তা। তিনি পার্বতীপুর রেল জংশনে প্লাটফরম ইন্সপেক্টর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। রেলওয়ে সাহেব পাড়া কলোনীর টি-১৪৭ নম্বর বাসায় থাকতেন। এ বাসাতেই তিনি আজীবন কাটিয়ে ১৯৬৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারী শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ঐ বাড়িতে রাখা স্মৃতিচিহ্ন স্বরূপ খেলোয়াড়ী জীবনের উপহার সমূহ তার ব্যবহার্য দূর্লভ আসবাবপত্র এ বাড়ি থেকে লুটপাট হয়ে যায়। তার মৃত্যুর পর পার্বতীপুর ইসলামপুর কবরস্থানে তাকে সমাধিস্থ করা হয়। তৎকালীন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পার্বতীপুরে সামাদের স্মরণে রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম-দক্ষিন পাশের্^ রেল ভূমিতে একটি মিলনায়তন তৈরী করেন। যার নাম নাখা হয় “সামাদ ইন্সটিটিউট”। বর্তমানে সরকারী পৃষ্টপোষকতার অভাবে এ ইন্সটিটিউটটি জরাজীর্ন ও অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। ফুটবল যাদুকর সামাদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি একান্ত প্রয়োজন বলে এলাকাবাসী মনে করেন। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অনেক পরে হলেও সামাদের কবরের ওপর নির্মিত হয়েছে একটি স্মৃতিসৌধ। তৎকালীন জেলা প্রশাসক শাখাওয়াত হোসেনের উদ্যোগে উক্ত স্মৃতিসৌধের নক্সা করা হয় এবং প্রায় ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় সামাদ স্মৃতিসৌধ। #