অধ্যক্ষের নির্দেশে ঈশ্বরদী সরকারী কলেজের প্রধান ফটকে তালা : তালা ভেঙ্গে দিলো বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা


ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ॥
অধ্যক্ষের নির্দেশে ঈশ্বরদী সরকারী কলেজের প্রধান ফটক ও বিভিন্ন বিভাগের প্রধান গেটের তালায় সুপার গ্লুআঠা মেরে কলেজ ক্যাম্পাসসহ শ্রেণী কক্ষে যাতায়াত রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে কলেজ শিক্ষার্থীরা। দ্রুত এই খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কলেজের আশপাশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সাবেক শিক্ষার্থীরা এসে বিক্ষোভে অংশ নেন। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকসহ সকল গেটের আটকে দেওয়া তালা ভেঙ্গে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন।

সোমবার পৌনে ১২ টায় ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে জমি সংক্রান্ত মামলায় কলেজের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন বিভাগের গেটে তালা মারার এই ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীদের সুত্রে জানা যায়, আজ সকাল ১০টার দিকে তারা ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে এসে প্রধান ফটক ও শ্রেণিকক্ষ তালাবন্দি দেখেন। বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ও ক্লাশ না করেই তারা কলেজ থেকে ফিরে যান। কলেজের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধানের ফটকে তালা মেরে দেওয়ার প্রকৃত খবর জানাজানি হলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় যুক্ত থাকায় ঈশ্বরদী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ও গণিতের বিভাগীয় প্রধান ম্যুরারি মোহন দাস, ইংরেজি বিভাগের প্রধান রবিউল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রবিউল ইসলাম ও দর্শন বিভাগের প্রধান নজরুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ ও বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রধান গেটের তালা ভেঙে কলেজে প্রবেশ করে। কলেজের সামনে উত্তাল অবস্থার সৃষ্টি হলে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতী শান্ত করেন।

ঈশ্বরদী সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী ও কলেজ ছাত্রনেতারা অভিযোগ করে জানান, কলেজের সামনের ১ দশমিক ২৭ একর জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে বিচারাধীন মামলায় কলেজের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে কলেজের প্রধান ফটক তালা মেরে বন্ধ করে দিয়েছেন অধ্যক্ষ ও ৪ শিক্ষক। যা ঈশ্বরদী সরকারী কলেজে আগে কখনো ঘটেনি, শিক্ষার্থীরা আজ কলেজে এসে বিষ্ময় ও হতাশা ব্যক্ত করেন।

ঈশ্বরদী সরকারী কলেজের সাবেক ছাত্র রাকিবুল হাসান রনি জানান, আমরা জমি অধিগ্রহণের পক্ষে। তবে নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য অধ্যক্ষ ৬০ বছরের পুরনো এই কলেজে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের চলাচলের প্রধান ফটক তালা মেরে বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবীর সঙ্গে একাত্বতা ঘোষনা করে রনি জানান, অধ্যক্ষসহ ৪ শিক্ষককে দ্রুত অপসারণ দাবীতে গণস্বাক্ষর যুক্ত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রীর নিকট প্রদান করা হবে।

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মোঃ আলাউদ্দিন বিপ্লব জানান, কলেজের সামনে ৪ বিঘা ২ কাঠা জমি রয়েছে। জমির বর্তমান মুল্য অনুযায়ী জমিটি চারগুন মুল্যে অধিগ্রহণ করা হলে সরকারকে প্রায় ৩২ কোটি টাকা দাম দিতে হবে। তিনি আরো জানান, বর্তমান অধ্যক্ষ আব্দুর রহিমের চাকরীর মেয়াদ মাত্র ১৫ দিন রয়েছে। তারপর তিনি অবসরে চলে যাবেন। এই জন্য অধ্যক্ষ কয়েকজন শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ওই জমির মালিকের সঙ্গে গোপনে আতাত করে কলেজে অচল পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারকে উচ্চ মুল্যে জমি অধিগ্রহণ করতে বাধ্য করার অপ্রচেষ্টাস্বরুপ অধ্যক্ষ কলেজে তালা মেরেছেন বলে অভিযোগ করেন।

ঈশ্বরদী সরকারী কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ও গণিতের বিভাগীয় প্রধান ম্যুরারি মোহন দাস জানান, অধ্যক্ষের নির্দেশে কলেজের প্রধান ফটকে আমি তালা মেরেছি, এখন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। এই ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলা করে কলেজের পরিবেশ শান্ত রাখতে যা যা করা প্রয়োজন’ তাও করতে অধ্যক্ষ নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবী করেন এই শিক্ষক।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারকী বলেন জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়নি। কলেজ গেটে কে বা কারা তালা মেরেছে তা আমরা জানিনা।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শিহাব রায়হান জানান, ঘটনাটি শুনে আমি কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। জমি সংক্রান্ত হাইকোর্টে চলা মামলার রায়ের নির্দেশ পেয়েই অধ্যক্ষ কলেজের প্রধান ফটকে তালা মেরেছেন বলে অধ্যক্ষ স্বীকার করেছেন।

ঈশ্বরদী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুর রহিম জানান ‘আদালতের নির্দেশনায় কলেজের প্রধান ফটকে তালা মেরে বন্ধ করা হয়েছে। কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য পেছনে একটি ফটক তৈরী করে দেওয়া হবে বলেও জানান অধ্যক্ষ।