গাইবান্ধা শহর ট্রাক্টরের বেপরোয়া অবাধ যাতায়াত


গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে এবং গ্রামাঞ্চলে সকল প্রকার মালামাল এবং নদী থেকে মাটি ও বালু তুলে তা পরিবহনের কাজে বেপরোয়া ও অবাধ যাতায়াত বেড়েছে ট্রাক্টরগুলোর। যা স্থানীয়ভাবে কাঁকড়া নামে সর্বাধিক পরিচিত। এদের বেপরোয়া চলাচলে এবং প্রচন্ড শব্দ দূষণসহ দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে জীবন বিপন্ন হচ্ছে জেলার সর্বশ্রেণি মানুষের। তদুপরি ভারী বড় বড় চাকার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শহর গ্রামের পাকা রাস্তা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ। অথচ কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য আমদানিকৃত লাইসেন্স বিহীন অবৈধ এই দানব যানটি নিয়ন্ত্রনে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।

এব্যাপারে জেলার কৃষকরা জানান, জমি চাষের জন্য সরকার ভর্তুকি দিয়ে ট্রাক্টর আমদানি করে থাকে। এই ট্রাক্টর শুধু কৃষি কাজেই ব্যবহার করার কথা। কিন্তু একশ্রেণির ব্যক্তি কৃষি কাজে ব্যবহারের ঘোষণা দিয়ে ট্রাক্টর কিনে তার সাথে একটি ডালা লাগিয়ে মাল পরিবহনের জন্য অদ্ভুত যান তৈরি করছেন যা গাইবান্ধায় কাঁকড়া নামে পরিচিত।

গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কাঁকড়া নামে অদ্ভুত যান ট্রাক্টর। কিছু দিন আগেও গাইবান্ধা শহরে কাঁকড়া চলাচল কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু সম্প্রতি এই নিয়ন্ত্রণ অজ্ঞাত কারণে শিথিল হয়ে পড়ায় কাঁকড়ার চলাচল অবাধ ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গাইবান্ধা শহরের ভিএইড রোড, কলেজ রোড়, ডেভিড কোম্পানীপাড়া, ব্রিজ রোড ও বালাসি রোডে কাঁকড়ার বেপরোয়া চলাচলে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা। বিশেষ করে ভিএইড রোডের খন্দকার মোড় এমনিতেই শহরের ব্যস্ততম এলাকার অন্যতম। তদুপরি ঘনবসতিপূর্ণ ডেভিড কোম্পানীপাড়া এলাকার উপর প্রতিদিন ওই রোডে ৮/১০টি কাঁকড়া চলাচল করার কারণে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজট লেগে থাকছে। এছাড়া কাঁকড়ার বিকট শব্দে ওই এলাকার বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

উলেখ্য, গাইবান্ধার সাত উপজেলাতেই গ্রামীণ কাঁচা-পাকা ও আঞ্চলিক সড়কে আদিপত্য বিস্তার করেছে ইট, বালু ও মাটিসহ মালবাহী ট্রাক্টর। জমি চাষের এসব ট্রাক্টরে ভাঙছে সড়ক ও বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ। বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়ছে মানুষ। মালবাহী ট্রাক্টরের চালকদের কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ নেই। এরা সবাই কিছুদিন হেলপারের কাজ করে। তারপর হঠাৎ চালকের আসনে বসে চালক সাজে। এগুলো চলাচলে কোনো নিয়ম মানে না বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ রয়েছে।