ছাতকে চন্দন মিয়ার বাগানে সুর্যমুখীর বাম্পার ফলন

ছাতক প্রতিনিধিঃ
ছাতকে সুর্যমুখী ফুল চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন কৃষক চন্দন মিয়া। তার বাগানে সুর্যমুখীর বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিদিন তার বাগান দেখতে কয়েকশ’ দর্শনার্থী এসে ভীড় করেছেন। চন্দন মিয়া উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের কেওয়ালীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ বছর তার নিজ গ্রামে ৪৫শতক জমিতে সুর্যমুখী ও ভুট্টা চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন তিনি।
সরেজমিনে চন্দন মিয়ার সূর্যমুখী ফুলের বাগান ঘুরে দেখা যায়, অপরূপ সৌন্দর্যে সেজেছে গোটা কেওয়ালীপাড়া এলাকা। ভুট্টা এবং সূর্যমুখী ফুলের গাছ গোটা এলাকার মধ্যে এক অপরুপ সুন্দর দৃশ্য ধারণ করেছে। পথচারীদের পাশাপাশি ভ্রমণ পিপাসুদেরও মন আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠেছে। এখানে প্রতিদিন অগণিত দর্শনার্থীদের পদচারণা বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। কৃষক চন্দন মিয়া জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তোফিক হোসেন খান ও উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফ চৌধুরীর পরামর্শে ৪৫শতক জমিতে সুর্যমুখী ও ভুট্টা চাষ করে ব্যাপক সাফল্যের আশা করছি। তিনি জানান, কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ, সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আমার প্রতিটি শস্যে ইতিমধ্যে ফুল ধরেছে। ভাল ফলন পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। ব্যক্তি উদ্যোগে তার চাষাবাদ অত্র এলাকার কৃষকদের কৃষি কাজে উৎসাহ যুগিয়েছে।
জানা যায়, সূর্যমুখী ফুল সারা বছর চাষ করা যায়। তবে অগ্রহায়ণ মাসের মধ্য থেকে চাষ করলে এর ভাল ফলন পাওয়া যায়। সূর্যমুখীর বীজ যন্ত্রে মাড়াই করে তেল বের করা হয়। তেলের উৎস হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সূর্যমুখীর ব্যাপক চাষ হয়। সূর্যমুখীর তেল ঘিয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই তেল অন্যান্য ভোজ্য তেল থেকে ভাল এবং হৃদরোগীদের জন্য বেশ উপকারী। এতে কোলেস্টরলের মাত্রা অত্যন্ত কম। এছাড়া এতে ভিটামিন এ, ডি ও ই রয়েছে। এর বীজ হাস মুরগির খাদ্যরূপে ও তেলের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বেকার যুবকরা পরিত্যাক্ত জমিকে কাজে লাগিয়ে কৃষি কাজে এগিয়ে আসলে নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি দেশের খাদ্য ঘাটতিও পূরণ সম্ভব।
এদিকে, সোমবার ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন বাগান পরিদর্শন করে কৃষক চন্দন মিয়ার ভুয়সী প্রশংসা করেছেন। ভাতগাঁও ইউনিয়নের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফ চৌধুরী জানান, কৃষক চন্দন মিয়া সূর্যমুখী চাষের ফলে বাড়তি আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমবারের মতো চাষাবাদ করে ফসল উৎপাদনে সফল হতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরো জানান, সূর্যমুখী ফুল থেকে কোলেস্টেরলমুক্ত তেল উৎপাদন করে ক্ষতিকর পাম অয়েল ও সয়াবিনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে মানুষ। সূর্যমূখী বাগান পরিদর্শন করে আসা উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি শাজিল হোসেন বাবুল মেম্বার জানান, চন্দন মিয়ার বাগান এলাকার একজন আদর্শ কৃষক। তার বাগান দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক আগামীতে সুর্যমুখী বাগান করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।এ ধরনের বাগান করলে মুনাফার পাশাপাশি বেকার যুবকদের সংখ্যাও কমবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এমসি কলেজের ছাত্র আবুল হাসান জানান, চন্দন মিয়া একজন সফল কৃষক। প্রথমবারের মতো সুর্যমুখী চাষ অত্র এলাকার কৃষকদের মধ্যে নব উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। #