গোবিন্দগঞ্জে জলমহাল ইজারায় অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন


গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধায় প্রকৃত মৎস্যজীবিদের সর্বোচ্চ দামে পুকুর ইজারা না দিয়ে নামমাত্র মুল্যে অমৎস্যজীবি সমিতিকে পুকুর ইজারা দেয়ায় অনিয়মের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির উদ্যোগে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনের রাস্তায় এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন শাখাহার ইউনিয়নের রগাঁও মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি ছানোয়ার হোসেন, সাপমারা মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ, কামদিয়া মৎস্যজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার ও রাজাহার ইউনিয়ন মৎস্যজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছাত্তার, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুকিতুর রহমান রাফি প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ২০ একর পর্যন্ত তিন বছরের জন্য ৭৫টি পুকুরের ইজারারে বিষয়ে ১০ মার্চ ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে ১২ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ আবেদনপত্র বিক্রি, ২৪ মার্চ আবেদনপত্র জমা ও একই দিন তা খোলা ও ঘোষণা করা হবে বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। ২৪ মার্চ ইজারা ঘোষণা না করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ২৩টি প্রকৃত মৎস্যজীবি সমিতিকে বঞ্চিত করে গোপনে ১৮টি অমৎস্যজীবি সমিতিকে ৬০টি পুকুর ইজারা দেওয়া হয়। বিষয়টি গত ৩ মে জানতে পারে এসব মৎসজীবি সমিতিগুলো। খোঁজ নিয়ে জানতে পারা যায়, কামদিয়া ইউনিয়নের গোংরাগাড়ী গ্রামের দুখু পুকুর প্রকৃত মৎস্যজীবিদের ১৩ লাখ টাকায় না দিয়ে ২ লাখ টাকায় অমৎস্যজীবি সমিতিকে দিয়েছে, একই গ্রামের সুখু পুকুর ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকায় প্রকৃত মৎস্যজীবিদের না দিয়ে মাত্র ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় অমৎস্যজীবি সমিতিকে গোপনে ইজারা দেওয়া হয়। এরকম আরও বেশি কিছু পুকুরের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। এতে করে সরকার প্রচুর রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই এই ইজারা বাতিল করে পুনরায় প্রকৃত মৎস্যজীবিদের সর্বোচ্চ দামে পুকুর ইজারা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে মৎস্য চাষীরা।

এ বিষয়ে উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামকৃষ্ণ বর্মন বলেন, ৭৫ টি পুকুরের মধ্যে ৬০ টি পুকুরের জন্য ১৩৬ টি আবেদন জমা পড়ে। একটি পুকুরের জন্য ১৫ টি আবেদন জমা পড়েছে বিধায় তাদেরকে ১৫টি পুকুর ইজারা দেয়া হয়। বাকী ৪৫টি পুকুরের বিষয়ে জলমহাল নীতিমালায় যে সমিতি তীরবর্তী হবে তাকেই দিতে হবে। তাই এই নীতিমালার আলোকে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিলে প্রকৃত মৎস্যজীবিদেরই জলমহাল ইজারা দেয়া হয়।