ঈদের ছুটিতে চলাচলে কড়াকড়ি : কর্মস্থল ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা


অনলাইন রিপোর্ট :দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় ঈদের ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে সাধারণ ছুটির মেয়াদ ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হলেও সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে কিছু শর্ত৷ ।

বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে নতুন এ আদেশ জারি করা হয় বলে জানায় বাংলাদেশে ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার ৷ আদেশে আগের ছুটির ধারাবাহিকতায় ১৭ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত নতুন করে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়৷ ২১ মে শবে কদর, ২২, ২৩, ২৯ ও ৩০ মের সাপ্তাহিক ছুটি এবং ২৪, ২৫ ও ২৬ মে ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটিও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷ ছুটিতে কর্মস্থল ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, ঈদের আগে-পরে চলাচলে কড়াকড়ি এবং ঈদ জামাত নিয়েও সতর্কবার্তা এসেছে৷

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘ছুটির’ এই সময়ে জনসাধারণের চলাচল সীমিত থাকবে৷ এক জেলা থেকে আরেক জেলা এবং এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলায় জনসাধারণের চলাচল ‘কঠোরভাবে’ নিয়ন্ত্রিত থাকবে৷ জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা ‘সতর্কভাবে’ বাস্তবায়ন করবে৷

উক্ত সময়ে সড়কপথে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও রেল চলাচল এবং অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল বন্ধ থাকবে এবং মহাসড়কে মালবাহী/জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন ব্যতীত অন্যান্য যানবাহন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে৷

ঈদের আগের চারদিন, ঈদের দিন এবং ঈদের পরের দুইদিন মিলিয়ে মোট সাত দিন প্রাইভেটকারসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হবে না বলে আগেই জানিয়েছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন৷
সাধারণ ছুটি/চলাচলে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কর্মস্থল ত্যাগের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে৷ যে যেখানে আছেন সেখানে থেকেই এ বছর ঈদ উদযাপন করতে বলা হয়েছে৷

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৫ মে বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে৷ ঈদের নামাজের ক্ষেত্রেও ‘বিদ্যমান বিধি-বিধান’ প্রযোজ্য হবে জানিয়ে আদেশে বলা হয়, ‘‘উন্মুক্ত স্থানে বড় জমায়েত পরিহার করতে হবে৷ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে৷”

সরকারের ছুটির আদেশে আরও বেশ কিছু বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে৷

ছুটির এই সময়ে জনসাধারণ ও সব কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই স্থাস্থ্য সেবা বিভাগের জারি করা নির্দেশমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে৷

রোজা ও ঈদ সামনে রেখে দোকানপাটে বেচাকেনার সময় পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে৷ শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়া ও স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করার ব্যবস্থা রাখতে হবে৷ শপিংমলে আসা যানবাহন অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে৷ দোকানপাট এবং শপিংমল বিকাল ৪টার মধ্যে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে৷

জরুরি সেবা যেমন- বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এ সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা সাধারণ ছুটির বাইরে থাকবেন৷

সড়ক ও নৌপথে সকল প্রকার পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাক, লরি, কার্গো ভেসেল চলাচল অব্যাহত থাকবে৷

কৃষিপণ্য, সার, কীটনাশক, খাদ্য, শিল্প পণ্য, রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল, কাঁচা বাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ক্ষেত্রে এ ছুটি প্রযোজ্য হবে না৷

চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী এবং ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহন ও কর্মী, গণমাধ্যমে (ইলেকট্রনিক ও প্রিন্টি মিডিয়া) এবং কেবল টিভি নেটওয়ার্কে নিয়োজিত কর্মীরা এ ছুটির আওতায় পড়বেন না৷

ঔষধশিল্প, উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্পসহ সকল কলকারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে চালু রাখতে পারবে৷ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ প্রণীত ‘বিভিন্ন শিল্প কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণে নির্দেশনা’ প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে৷

পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তীতে শিল্প-কারখানা, কৃষি এবং উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো ও পরিবহন পর্যায়ক্রমে উন্মুক্ত করা হবে৷

ছুটির সময় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে না৷

রমজান, ঈদ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা বিবেচনায় ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে৷

সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অফিসগুলো প্রয়োজন অনুসারে খোলা রাখবে৷ সেইসঙ্গে তারা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে৷ মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং আওতাধীন অফিসগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা ১৩ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে৷

বাংলাদেশে প্রথম দফায় গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সব অফিস-আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল৷ সেই সঙ্গে সারা দেশে সব ধরনের যানবাহন চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়৷
এরপর সেই ছুটির মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করা হয়৷ তবে এর মধ্যে কিছু বিধি-নিষেধ তুলে দেওয়া হয়৷

ঘর থেকে বের হওয়ার সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর পাশাপাশি বিপণি বিতান ও দোকানপাট খোলার অনুমতি দেওয়া হয়৷ সেই সঙ্গে চালু হয় পোশাক কারখানা, বাইরে থেকে মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজও পড়া যাচ্ছে এখন৷ তবে বন্ধ রয়েছে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান৷ #