কার্বাইড দিয়ে পাকানো ফল হতে সাবধান


অনলাইন রিপোর্ট : বর্তমানে চলছে ফলের মৌসুম, বাজারে সর্বত্র নানান ফলের সমাহার। অধিক মুনাফার লোভে কাঁচা ফল পাকাতে ব্যবহার হচ্ছে কার্বাইড। ক্যালসিয়াম কার্বাইড (CaC2) এক ধরণের রাসায়নিক পদার্থ। এটি বাতাস বা জলীয়বাষ্পের সংস্পর্শে এলেই উৎপন্ন করে এসিটিলিন গ্যাস। ফলে প্রয়োগ করলে এসিটিলিন (C2H2) ইথানল (C2H5OH) নামক বিষাক্ত পদার্থে রূপান্তরিত হয়।

কার্বাইড রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ফলকে খুব দ্রুত পাকতে সাহায্য করে। ফল কাঁচা কিংবা আধাপাকা যে অবস্থায়-ই থাকুক না কেন কার্বাইডের প্রভাবে ভেতর ও বাইরে ফলটির দশা স্বাভাবিকভাবে পাকা ফলের মতো হয়ে যায়। তবে বর্ণের বেলায় এর প্রভাব বেশী, কেননা, কার্বাইড দিয়ে পাকানো ফল খেতে কখনই স্বাভাবিকভাবে পাকা ফলের মত হয় না। টমেটো, আম, পেঁপে ইত্যাদি ফলকে কৃত্রিমভাবে পাকানো হলে ফলত্বক সুষম রঙ ধারণ করে। কলার ক্ষেত্রে ফলত্বক হলুদ বর্ণের থাকলেও বোটা ও পশ্চাৎ অংশ গাঢ় সবুজ রঙের থেকে যায়।

এক-পলকে কার্বাইডের ক্ষতিকর কিছু প্রভাব

কেমিক্যাল মিশ্রিত ফল খেলে মানুষ দীর্ঘমেয়াদী নানা রকম রোগে ভোগে, তারমধ্য-
• বদহজম
• পেটেরপীড়া
• পাতলা পায়খানা
• জন্ডিস
• গ্যাস্ট্রিক
• শ্বাসকষ্ট
• অ্যাজমা

এমনকি লিভার ও কিডনি নষ্ট হতে পারে। গর্ভবতি ও দুগ্ধদানকারী মহিলাদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও ক্ষতিকর। কারন শিশুদের নানান জটিলতাসহ বিকলাঙ্গ শিশুরও জন্ম হতে পারে।

এছাড়াও বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, বুক ও তলপেটে জ্বালাপোড়া, তৃষ্ণা, শারীরিক দুর্বলতা, গিলতে অসুবিধা, চোখ ও ত্বকে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া, দৃষ্টি হারানো, বিবিধ চর্ম রোগ, গলা ব্যথা, কাশি ও কষ্টকর শ্বাস-প্রশ্বাস এগুলো হতে পারে। বেশী মাত্রায় এটি ফুসফুসে পানি জমায়। যেহেতু এটি এসিটিলিন গ্যাস ছাড়ে তাই পাকস্থলীতে বিশেষ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়, যেমন পেট খারাপ ও পেটে জ্বালাপোড়া। এসিটিলিন গ্যাস ব্রেনে পৌঁছালে হাইপোক্সিয়া সৃষ্টি করে। যা মাথা ব্যথা সহ ঝাপসা দেখা, অনিদ্রা, বিশৃঙ্খলা ও বিষণ্ণতা, স্মৃতিভ্রষ্ট, অবসাদগ্রস্থতা, সেরেব্রাল এডেমা— ইত্যাদি রোগের উদ্ভব ঘটায়। এতে কিন্তু স্বল্প পরিমাণে আর্সেনিক (As) ও ফসফরাস হাইড্রাইড (PH3) থাকে। সামগ্রিক ভাবে কার্বাইড একটি কার্সিনোজেনিক পদার্থ; দীর্ঘদিন ব্যবহারে ক্যান্সারও হতে পারে।

লেখক: গবেষক ও সহকারী অধ্যাপক
ফার্মেসি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়