স্বাস্থ্যঝুকিতে পার্বতীপুর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা

শাহাজুল ইসলাম, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।


দিনাজপুরের পার্বতীপুরে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও পৌরসভা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে গিয়ে নিজেদের স্বাস্থ্যঝুকির বিষয়ে সচেতন নন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

করোনা ঠেকাতে সরকার স্বাস্থ্যবিধির কথা বললেও পার্বতীপুর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাস্ক, গ্লাভস ও বুটজুতা কিংবা এপ্রোন ছাড়াই ঝুকিপূর্ণ ময়লা অপসারন করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে পার্বতীপুর পৌর মেয়র এ জেড এম মেনহাজুল হক বলেন, পৌরসভা থেকে তাদেরকে কাজ করার জন্য পোষাক পরিচ্ছদ দেওয়া হয়েছে। তারা রোদ বৃষ্টি বাদলে এ ঝুকির্পর্ণ কাজ করে। তাই এপ্রোন পরতে বললেও তারা পরেনা। এরা অশিক্ষিত মানুষ, এগুলোর ব্যবহারই তারা বুঝেনা, বললেও শোনে না। প্যানেল মেয়র মনজুরুল আজিজ (পলাশ) জানান, এ পৌরসভায় ২৭ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দৈনিক মজুরীর ভিত্তিতে কাজ করে। প্রতিদিন সবাই কাজে আসে না। ১০/১২ জন করে রদবদল হয়। তিনি আরও জানান, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ করার জন্য হেলমেট, হলুদ রঙের এপ্রোন ও হ্যান্ডগ্লাভস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এদেরকে এগুলো ব্যবহার করতে বললেও করেনা। এসব পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ দেওয়া না হলেও ভালোভাবে বলে দেওয়া হয়েছে। পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ষাটোর্ধ বয়সের দু’জন ব্যক্তি হাফিজ ও নাজিমুদ্দিনকে গত রোববার শহরের বাবুপাড়ার একটি ডাস্টবিনের ময়লা পরিষ্কারের সময় মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস, বুটজুতা বা এপ্রোন পরিধান না করেই কাজ করতে দেখা যায়। নাজিমুদ্দিন বলেন, গরমে গা ঘামে তাই পোষাক পরি নাই, আর হ্যান্ডগ্লাভস ছিড়ে গেছে। বুটজুতা পৌরসভা থেকে দেওয়া হয় নাই। অন্য আর একজন কর্মী হাফিজ বলেন, হামার গরিব মানুষের কাজ করতে ওগুলো কিছু লাগে না।

এব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল্লা হেল মাফি জানান, এসব পরিচ্ছন্নতাকর্মী এভাবে কাজ করলে যেকোন ধরনের ভাইরাসের আক্রমনে বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে। ময়লা আবর্জনায় অনেক ধরনের রোগজীবাণু থাকে, এসব দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এভাবে কাজ করা অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ। আর এটা দেখার দায়িত্ব পৌরসভা কর্তৃপক্ষের। #