প্রতারণার অভিযোগে গাইবান্ধায় পুলিশের ভূয়া ডিআইজি গ্রেফতার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদরের পশ্চিম চৌরাস্তা মোড় এলাকা থেকে সোমবার রাতে পুলিশের ভূয়া ডিআইজি পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে মাসুদ সরকার (২৮) কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। মাসুদ সরকার ওই উপজেলার চকরহিমাপুর মধ্যপাড়া এলাকার মজিদ সরকার ছেলে।

গোবিন্দগঞ্জ থানা সুত্রে জানা গেছে, মাসুদ সরকার কখনও পুলিশের ডিআইজি, কখনও সেনা বাহিনীর কর্মকর্তা, আবার কখনও নারী নেত্রী পরিচয় দিয়ে কণ্ঠ নকল করে প্রতারণা করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আদালতে আরও ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মাসুদ গত ১৪ জুন রাতে তার প্রতিবেশি সৌদি প্রবাসী জাকির হোসেনের কণ্ঠ নকল করে জাকিরের মামিকে ফোন করে বলে, ‘মামি আমি জাকির, সৌদি পুলিশের কাছে ধরা পড়েছি, মাকে ফোনটা দেন।’ পরে মাকে বলে, ‘১০ মিনিটের মধ্যে ৩০ হাজার টাকা বিকাশে না দিলে সৌদি পুলিশ আমাকে জেলে ঢোকাবে।

এই ফোন পেয়ে জাকিরের স্বজনরা তার দেয়া বিকাশ নম্বরে দুই বারে মোট ২৫ হাজার টাকা পাঠায়। এর কিছুক্ষণ পর পুনরায় জাকির ফোন করে কান্নাকাটি করে এবং আরও ১৫ হাজার টাকা বিকাশে পাঠাতে বলে। আবারো জাকিরের স্বজনরা ১৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে। পরে টাকা পাঠানোর আগে ওই নম্বরে ফোন দেয়। কিন্তু ফোন নম্বরটি বন্ধ পায়। এতে তাদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি জাকিরের বাবা থানায় এসে পুলিশকে অবহিত করে। থানা পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিশ্চিত হয় এটি প্রতারক মাসুদ সরকারের ব্যবহৃত ফোন নম্বর। কিন্তু মোবাইল ফোনের সিমটি তার নামে রেজিস্টেশন করা নাই। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে আরও অবগত হয় মাসুদ তার সহযোগী একই গ্রামের তুহিন মিয়াসহ কতিপয় সিম বিক্রয়কারীর সহায়তায় এই সব মোবাইল ফোনের সিম সংগ্রহ করে। আবার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন নম্বরও ক্লোন করে এইসব প্রতারণা করে।

তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনার পরেও গত ১৯ জুন মাসুদ নিজেকে পুলিশ হেডকোয়ার্টাস এর ডিআইজি পরিচয় দিয়ে তার নিজের মামলা সংক্রান্ত ব্যাপারে থানায় তদবির করে। #

পলাশবাড়ীতে জনতা ব্যাংক শাখা লকডাউন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
জনতা ব্যাংক লিমিটেডের গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শাখা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ কামরুজ্জমান নয়ন সোমবার সন্ধ্যায় এই তথ্য জানায়।

গণ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই শাখায় কর্মরত ক্যাশ অফিসার মোঃ ফজলুল করিম (৪৫) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় এই সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত এই শাখার ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এছাড়া ফজলুল করিমের সংর্স্পশে যারা এসেছিল, তাদের সনাক্ত করা হচ্ছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ফজলুল করিম গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ভাতগ্রামের মৃত ছামছুল হকের ছেলে।

সাদুল্যাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পা কর্মকর্তা মোঃ শাহীনুল ইসলাম মন্ডল জানান, গত ২০ জুন ফজলুল করিমের করোনাভাইরাস পজেটিভ রির্পোট পাওয়া গছে। ফজলুল করিমের জেঠা নুরুল আমিন সরকার ওরফে ফুল মিয়া (৬৮) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ৯ জুন মারা যায়। এরপর তার সংস্পর্শে আসা ১০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। গত ২০ ও ২১ জুন ওই নমুনার প্রাপ্ত ফলাফলে জানা যায়, মৃত্যু ফুল মিয়ার সংস্পর্শে আসা তার পরিবারের ৭ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

তারা হলো-, মৃত. ফুল মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫৮), ছোট ভাই কাউছুল ইসলাম (৪৮), ভাতিজা ফজলুল করিম (৩৮) ও নাতি নাজমুল ইসলাম (১৮), কাউছুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা বেগম (৪৫), ফজলুল করিমের স্ত্রী নাজনীন বেগম (৩২) এবং মা ফুল বেগম (৫১) । তারা সকলেই বাড়ীতেই আইসোলেশনে রয়েছে। #

গাইবান্ধায় করোনা ভাইরাসে পুলিশের মহিলা ইন্সপেক্টরসহ নতুন করে ৫ জন আক্রান্ত : হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ৫৩১ জন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধায় করোনা ভাইরাসে পুলিশের মহিলা ইন্সপেক্টর শাকিলা পারভীনসহ নতুন করে আরও ৫ জন আক্রান্ত হয়েছে বলে সিভিল সার্জন সুত্রে মঙ্গলবার সকাল ১০টার রিপোর্টে জানা গেছে। এরমধ্যে করোনায় আক্রান্ত শাকিলা পারভীনকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক হলো দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের বাসিন্দা উক্ত পুলিশ কর্মকর্তার ব্যবসায়ি স্বামী গত ১৯ জুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এদিকে সোমবার পর্যন্ত গাইবান্ধায় করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত সংখ্যা ছিল ২১১ জন। গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৫ জন বেড়ে জেলায় এখন মোট সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৬ জন।

তবে করোনা ভাইরাস সন্দেহে নানা উপসর্গে নতুন করে ২৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩১ জন। এদিকে জেলায় সর্বমোট করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এখন ২১৬ জন। এরমধ্যে ৬ জন মারা গেছে। ১৬৮ জন গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন আইসোলেসনে রয়েছে। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত ৪২ জন রোগী সুস্থ হওয়ায় তাদেরকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত উলেখ্য যে, সিভিল সার্জন প্রদত্ত তথ্যে আরও জানা গেছে, জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ৫৩১ জন চিকিৎসাধীন রোগী হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। এরমধ্যে সুন্দরগঞ্জে ৯২, গোব্দিন্দগঞ্জে ১৮২, সদরে ১১৪, ফুলছড়িতে ১৯, সাঘাটায় ২৯, পলাশবাড়িতে ৩৯ ও সাদুল্যাপুর উপজেলায় ৫৬ জন। #