গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি নতুন নতুন এলাকা পাবিত নদী ভাঙন বৃদ্ধি


গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় সোমবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের পানি তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৮ সে.মি. ও ঘাঘট নদীর পানি নতুন ব্রীজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৩ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরও মারাত্মক অবনতি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা পাবিত হচ্ছে। ফলে পানিবন্দী হয়ে পড়ছে হাজার হাজার মানুষ। এছাড়া পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদী ভাঙনও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাঙন কবলিত ও পানিবন্দী লোকজন তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গরু-ছাগল নিয়ে নৌকায় করে আসবাবপত্র নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ও উঁচু স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে।

এদিকে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ফুলছড়ি ইউনিয়নের জামিরা ও নামাপাড়া গ্রামের ৫৭টি, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ি, আলগারচর, ভাটিয়াপাড়া, পূর্ব হরিচন্ডি, পাগলারচর, তিনথোপা গ্রামে নদী ভাঙনের শিকার হয়ে ৮৫টি পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। এদিকে আকস্মিক বন্যায় বালাসীঘাটের দক্ষিণ পার্শ্বে ফুলছড়ি উপজেলার রসুলপুর ও কাইয়ারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি বন্যার পানিতে নিমজিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তবে বাঁধ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

অপরদিকে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৫ লাখ টাকা ও ৬০ মে. টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। তার মধ্যে বন্যা দুর্গতদের মধ্যে বিতরণের জন্য ৪ উপজেলায় ২ লাখ টাকা এবং ৪০ মে. টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এদিকে জেলা প্রশাসক সোমবার জেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, বন্যার্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে। বাঁধগুলো যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে সেজন্য ইতোমধ্যে বহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ও ঘাঘট শহর রক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে গ্রাম পুলিশসহ স্বেচ্ছাসেবীদের সার্বক্ষনিক তদারকিতে নিয়োগ করা হয়েছে। #

সারাদেশে নারী-শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে : গাইবান্ধায় বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের মানববন্ধন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
সারাদেশে নারী-শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে গতকাল সোমবার জেলা শহরের ১নং ট্রাফিক মোড়ে এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন জেলা বাসদ (মার্কসবাদী)র সদস্য সচিব মনজুর আলম মিঠু, নারীমুক্তি কেন্দ্রের জেলা সভাপতি রোকেয়া খাতুন, হালিমা খাতুন, পারুল বেগম, শামিম আরা মিনা, সাংস্কৃতিক কর্মী শাহনাজ আমিন মুন্নী, গাইবান্ধা কলেজিয়েট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আফরোজা খানম লিলি প্রমুখ।

বক্তরা বলেন, করোনা মহামারী সময়েও নারী-শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত একমাসে শুধু গাইবান্ধাতেই গণ ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক শিশুর জননী, স্কুল শিক্ষক কর্তৃক শিশু গৃহ পরিচারিকা এবং ভন্ড কবিরাজ কতৃক তিন শিশু। ধর্ষকদের বেশিরভাগই এখনো গ্রেফতার হয়নি। যারা গ্রেফতার হয় তারাও আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে রক্ষা পেয়ে যায়। দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি না হওয়ায় ধর্ষণ-নির্যাতন বেড়েই চলেছে। সিনেমা-নাটক এবং ধর্মীয় গুরু-মোলাদের বক্তৃতায় নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে উপস্থাপনের কারণে বৃদ্ধি পাচ্ছে নারী নির্যাতন-ধর্ষণ। তারা নারী-শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যা বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং প্রয়োগ করার জোর দাবী জানান। নেতৃবৃন্দ করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের চরম ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপের দাবী করেন। তারা বলেন, জেলা ও উপজেলায় করোনা টেষ্টের ল্যাব স্থাপনসহ সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের রেশনে খাদ্য সামগ্রী সরবরাহের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। #