সৈয়দপুরে ছিনতাই চক্রের হোতা শেখ মামুন আটক


সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি॥ নীলফামারীর সৈয়দপুর ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট আশরাফ কুরাইশীর তাৎক্ষনিক চৌকশ সিদ্ধান্ত ও তড়িৎ তৎপরতায় ব্যাগ কাটা চক্রের হোতা আটক হয়েছে। ২৯ জুন সোমবার দুপুর ১২ টা ১০ মিনিটে শহরের শহীদ ডা: জিকরুল হক রোডস্ত গাউসিয়া ইলেকট্রনিক্স এর সামনে থেকে ব্যাগ কেটে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই করে পালানোর সময় তাকে আটক করা সম্বব হয়েছে। আটক ছিনতাইকারীর নাম শেখ মামুন (৫০)। সে নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের পানিয়ালপুকুর গ্রামের মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে।
জানা যায়, ঘটনার সময় সার্জেন্ট আশরাফ শহরের শহীদ ডা: জিকরুল হক রোডের যানজট নিরসনে দায়িত্ব পালন করছিল। এসময় একটি মোটর সাইকেল যোগে সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর বালাপাড়ার মৃত. তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সাবেক সেনা সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান সাজু নিজ ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান মুদি দোকানের মালামাল ক্রয়ের জন্য যাওয়ার পথে ওইস্থানে পৌছলে যানজটে আটকা পড়ে। এমতাবস্থায় ব্যাগকাটা চক্রের হোতা শেখ মামুন ইচ্ছেকৃতভাবে মোটর সাইকেলে তার পড়নের লুঙ্গি আটকে যাওয়ার
তর্কে জড়িয়ে সময় ক্ষেপন করতে থাকে এবং এসময় আরও ২ জন লোক মোটর সাইকেল চালকের সাথে তর্ক করতে থাকে। এ সুযোগে চোখের পলকে ব্লেড দিয়ে শেখ মামুন মুহুর্তে মোটর সাইকেলের হ্যান্ডলে ঝোলানো চটের ব্যাগ কেটে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালানোর চেস্টা করে। ব্যাপারটা মোস্তাফিজুর রহমান সাজু আঁচ করতে না পারলেও সার্জেন্ট আশরাফের নজরে পড়লে তড়িৎ গতিতে শেখ মামুনকে আটক করে। এসময় তার সহযোগী ২ জন পালিয়ে যায়। পরে শেখ মামুনের কোমরে লুঙ্গিতে লুকিয়ে রাখা ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ কনস্টেবল নিশাদ পারভেজ নাঈম এর সহযোগীতায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সে নিয়ে যান সার্জেন্ট আশরাফ কুরাইশী।
পরে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আবুল হাসনাত খানকে খবর দিলে তিনি বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রমিজ আলম কে জানালে তিনি ঘটনাস্থেল উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। এতে তিনি আটক শেখ মামুন কে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। পরে তাকে নীলফামারী জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
এ ব্যাপারে সার্জেন্ট আশরাফ কুরাইশী বলেন, বেশ কিছু দিন থেকেই শহরে ব্যাগ কেটে অভিনব পন্থায় ছিনতাই করার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। সে কারনে আমরা ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি তাদের আটকের। আজ ঘটনাক্রমে তাদের একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। অন্য ২ জন পালিয়ে গেছে তবে অচিরেই তাদেরকেও আটক করতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, আমরা জনগনের কল্যানে সর্বদা নিয়োজিত আছি। বিশেষ করে শহরের যানজট নিরসনসহ অবৈধ যান চলাচল প্রতিরোধ এবং চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সড়কে বহিরাগত যানবাহনে সন্দেহভাজন করোনা সংক্রমিতদের পরিবহনকারীদের আটকে সচেষ্ট ছিলাম। যে কারনে বেশ কয়েকটি বাস ও ট্রাকসহ যাত্রী আটক করা সম্ভব হয়েছে। জনগনের সহযোগীতা পেলে আমাদের প্রচেষ্টা আরও সফল হবে।
উল্লেখ্য, এক সপ্তাহ আগে শহরের দাউদ ম্যানশনের কায়সার ও হায়দারেরও ৫০ হাজার টাকা একই কায়দায় এই শেখ মামুনই ছিনতাই করেছে বলে তারা জানায়। সে সময়ই এই ব্যক্তিই তাদের সাথে অহেতুক তর্ক বাধিয়ে সটকে পড়ে। সেই মুহুর্তেই তাদের টাকাও খোয়া যায়। কিন্তু বিষয়টি তারা আঁচ করতে পারেনি। আজ শেখ মামুনকে দেখে তারা চিনতে পারে। #