কুড়িগ্রামে চিলমারী পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১০২ সেন্টিমিটার উপরে, বন্যায় ভাসছে মানুষ


মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম :
কুড়িগ্রামের সবকটি নদীর পানি ফুলে-ফেপে টইটুম্বুর হয়ে উঠেছে। চারদিকে শুধু পানি আর পানি।এরমধ্যে ধরলা নদীর পানি অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী মহাসড়কের মধ্যকুমরপুর হতে পাটেশ্বরী, আরডিআরএস এবং লোকালয়গুলো পানিতে ভাসছে। জেলার ৯ উপজেলার ৬০টি ইউনিয়নের প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন তিন লক্ষাধিক মানুষজন।

এদিকে নিজেদের সহায় সম্বল বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়ায় বানভাসিরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। হাঁস, মুরগী, গরু ছাগলসহ গবাদি পশু ও ঘরের ধান চালসহ অনেক জিনিস বন্যার পানির তোড়ে ভেসে যাচ্ছে। কাঁচা সড়ক ছাড়াও সদর উপজেলার মধ্যকুমরপুর এলাকায় পাকা রাস্তায় হাটু পানি উঠে গত ৩দিন ধরে অবস্থান করছে। ফলে এখানকার বাজারে আসা মানুষজনের কষ্ট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। চর থেকে নৌকা নিয়ে পাকা রাস্তার ওপর দিয়ে নৌকায় নিজেদের মালামাল নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আসছে বানভাসীরা। এখনও অনেক এলাকায় বানভাসীদের ত্রাণ হাতে না পৌঁছায় বন্যার্তরা ক্ষোভ জানিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড এর তথ্যমতে, কুড়িগ্রাম ধরলা সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার, তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার, ব্রক্ষপুত্রের নুনখাওয়া পয়েন্টে ৭০ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ১০২ সে.মি মিটার উপরদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

২য় দফা বন্যায় জেলার ৬০টি ইউনিয়নের ৪ শতাধিক গ্রামের প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে এখন চরম সংকটে রয়েছে।জেলা-উপজেলা শহরের সাথে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে এসব মানুষ। বানভাসীদের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। উঁচু রাস্তা, বাঁধ, স্কুল ঘরে ও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার মানুষ। তবে নৌকার অভাবে অনেকেই নিরাপদ স্থানে যেতে পারছে না।

বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল : ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি অস্বাবাবিকভাকে বাড়তে শুরু করায় গত ২৪ ঘন্টায় জেলার বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল নতুন করে পস্নাবিত হয়েছে। বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, জামালপুর, নাটোর, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার বন্যাপস্থিতির অবনতির শঙ্কা রয়েছে। গত ৭২ ঘণ্টায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিকিম, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা অঞ্চলে কোথাও কোথাও ভারীবর্ষণ হয়েছে।