কুড়িগ্রামে শহররক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে নতুন করে ১৫ গ্রাম প্লাবিত


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামে ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমোরসহ প্রতিটি নদীর পানি সামান্য কমলেও প্রতিটি নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। ব্রহ্মপুত্রের প্রবল স্রোতে রৌমারীর উপজেলা শহররক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে উপজেলা চত্বরসহ নতুন করে ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

বুধবার রাতে শহররক্ষা বাঁধটি ভেঙ্গে প্লাবিত হয়। রৌমারী বাজার ও উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালদ পানিতে তলিয়ে গেছে। চলতি বন্যায় জেলায় প্রায় ৬ কোটি টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কালিপদ রায়।

রৌমারী এলজিইডির’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মেজবাহুল আলম জানান, রৌমারী শহররক্ষার জন্য সাড়ে ৫ কিলোমিটার এলাকাব্যাপী রৌমারী উপজেলা পরিষদ থেকে বন্দবের ইউনিয়ন পর্যন্ত বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালেও বাঁধটি ৪০ মিটার অংশ ভেঙে যায়। সেটি সংস্কার করা হয়েছে। নতুন করে জলিলের কুড়া নামক স্থানে বেশি চাপ অনুভূত হওয়ায় সেখানে কয়েক দিন ধরে বালুর বস্তা ও জিও ব্যাগ দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করে হলেও বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় ২০ মিটার অংশ ধ্বসে যায়। ব্রহ্মপূত্র নদে পানি বাড়ার কারণে সোনাভরি নদীতেও প্রবল স্রোত সৃষ্টি হয়। বাঁধ ভাঙার ফলে বন্যার পানি শহরে ঢুকে পড়েছে। এতে রৌমারী উপজেলা পরিষদ, রৌমারী বাজারসহ নতুন করে আরও ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপৎসীমার ৭১সে. মি., ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ৯০ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যায় জেলার ৬২ ইউনিয়নের ৫৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে সাড়ে ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নতুন করে তলিয়ে গেছে রৌমারীর ১৫টি গ্রাম। জেলার ১৬টি নদ-নদীর অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারণে জেলা-উপজেলা শহরের সঙ্গে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। বানভাসি মানুষের মাঝে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। উঁচু রাস্তা, বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার মানুষ। তবে নৌকার অভাবে অনেকেই নিরাপদ স্থানে যেতে পারছে না।
কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলীনুরায়েন জানান, জেলার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী সড়ক, রৌমারী-তুরা সড়ক, সোনাহাট-মাদারগঞ্জ সড়ক, ভুরুঙ্গামারী-সোনাহাট সড়ক ও ভিতরবন্দ-মন্নেয়ারপাড় সড়কের কিছু অংশ পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বালির বস্তা ও জিওব্যাগ দিয়ে ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করছি।

সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান জানান, দ্বিতীয় দফা বন্যায় পানিতে ডুবে দুই শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলায় ৮৫টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।
জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম জানান, বন্যাদুর্গতদের উদ্ধারে নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বানভাসিদের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
কুড়িগ্রাম ত্রাণ ও পূণর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানান, এর মধ্যে ১৭০ মেট্রিক টন চাল উপজেলাগুলোতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ৪ লাখ টাকা, ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ২ লাখ টাকার শিশু খাদ্য ও ২ লাখ টাকার গো-খাদ্য উপজেলাগুলোতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে মজুদ আছে ২৩০ মে. টন চাল, ৯ লাখ টাকা এবং ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার। #