ধামইরহাট উপজেলা সদরে রাস্তার সোল্ডার কাঁদায় পরিপূর্ণ, ভোগান্তিতে জনগণ

All-focus

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি ঃ
ধামইরহাট উপজেলা সদরের প্রধান সড়কের দুই পার্শের সোল্ডার কাঁদায় পরিপূর্ণ হয়ায় এলাকার জনগণকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিন কাঁদায় বিভিন্ন প্রকার যানবাহন আটকে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বার বার বলা হলেও অবস্থার তেমন কোন উন্নতি হয়নি। এক্ষুনি জরুরীভাবে পদক্ষেপ না নিলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হলেও জনগণ কোন উপকারে আসছে না।

জানা গেছে, নওগাঁ-ধামইরহাট-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের ধামইরহাটের আমাইতাড়া মোড় থেকে মঙ্গলবাড়ী বাজার পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার ৬শত ৫ মিটার রাস্তার মজবুতিকরণসহ সার্ফেসিং কাজ শেষ হয় গত রমজান মাসে। রাস্তার সাথে প্রায় ৯শত ৫ মিটার নতুন ড্রেনও নির্মাণ করা হয়। নওগাঁর সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করে নওগাঁর ঠিকাদার সংস্থা আমিনুল হক প্রায়ভেট লিমিটেড। রাস্তা নির্মাণ করার সাথে দুই পার্শে সোল্ডারে মাটি ফেলা হয়। আমাইতাড়া বাজার থেকে ধামইরহাট পূর্ব বাজার পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত রাস্তার দুই পার্শে দুই থেকে তিন ফিট প্রশস্ত সোল্ডারে একেবারে পুকুর থেকে গভীর কাঁদায় পরিপূর্ণ মাটি (চিটকা মাটি) ফেলা হয়। এলাকাবাসী এ সময় এই কাঁদা মাটির পরিবর্তে পলিমাটি (স্থানীয়ভাবে বালকা মাটি) দেয়ার দাবীতে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার বার অনুরোধ করলেও বিষয়টি আমলে নেয় হয়নি। বর্তমানে অবিরাম বৃষ্টিতে ওই কাঁদামাটি নরম হয়ে আরো কাঁদায় পরিণত হয়েছে। প্রায় এক ফুট গভীরতা এ মাটি এখন রাস্তার দুই পার্শের মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূল সড়ক থেকে কোন কারণে যানবাহন ওই কাঁদামাটিতে পড়ে গেলে তাকে তোলা খুবই কষ্ট হয়ে পড়ছে। প্রায় প্রতিদিন এ রকম ঘটনা ঘটছে। রাস্তার পার্শে মানুষের দাঁড়ানোর মতো জায়গা নেই। ভ্যান,রিক্সা থেকে শুরু করে সকল যানবাহন রাস্তায় উপর দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে হচ্ছে। তাছাড়া মালবাহী ট্রাকগুলো মূল রাস্তায় দাঁড়িয়ে মালামাল ওঠানামার কাজ করছে। এতে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা লেগে থাকছে। উপজেলার সদরের বিশিষ্ট মিল ব্যবসায়ী মো.ওবায়দুল হক সরকার বলেন,উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পার্শে পুকুর থেকে গলামাটি (কাঁদামাটি) এনে ফেলা হয়েছে। কাজটি মোটেও ঠিক হয়নি। ওই সময় আমরা প্রতিবাদ করেছিলেন কিন্তু আমাদের কথা কেউ কর্ণপাত করেননি। উপজেলা ক্যান্টিন চত্ত্বরের মোটর সাইকেল মেকানিজ শ্রী দ্বিজেন বলেন,মুল রাস্তা থেকে কাঁদা পেরিয়ে তার দোকানে গ্রাহক আসতে চায় না। আসলেও মোটর সাইকেল কাঁদায় মেখে যায়। বর্ষায় এ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। উপজেলা গেটের চা স্টল ব্যবসায়ী সুরুজ মিয়া বলেন,মূল সড়ক ঝকঝকে থাকলেও শুধু দুই পার্শে চিটকা মাটি দেয়ায় কাঁদা মেরে কেউ তার দোকানে চা খেতে আসে না। উপজেলার টিএন্ডটি এলাকার ব্যবসায়ী রতন বলেন,বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

এব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশীলী মোহাম্মদ হামিদুল হক বলেন,মূল সড়ক নির্মাণের পর দুই সোল্ডার মাটি দিয়ে ভরাট করতে হবে এটিই নিয়ম। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মাটি কাঁদায় পরিণত হয়েছে। যেহেতু ঘটনাস্থল পৌরসভায় অন্তর্গত। সুতরাং জনগণের সুবিধার্থে পৌর কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ গ্রহণ করলে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তারপরও বালি বা অন্য বিছু ফেলে এ পরিস্থিতির উন্নতির চেষ্টা করা হবে।