দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আচ্ছে ট্রেনের ১৫০টি কোচ চুক্তি স্বাক্ষর


অনলাইন রিপোর্ট : বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ আনতে যাচ্ছে সরকার। এ জন্য দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ৬৫৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে আনা হবে এগুলো।

বুধবার (২৯ জুলাই) রেল ভবনের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রকল্প পরিচালক মো. হাসান মনসুর এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন কান্ট্রি ম্যানেজার। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ কোরিয়ার সুংশিন আরএসটি-পসকো ইন্টারন্যাশনাল যৌথ কোম্পানি। চুক্তিমূল্য বাংলাদেশি টাকায় ৬৫৮ কোটি ৮১ লাখ ৩০ হাজার ৬৩ টাকা ৯০ পয়সা। এই প্রকল্পটি দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকে ১৮ থেকে ৩০ মাসের মধ্যে কোচগুলো পাওয়া যাবে।

চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া আমাদের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী দেশ। রেলওয়েসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা সহযোগিতা করছে। এসব কোচ রেলবহরে যুক্ত হলে বেশি পরিমাণে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। ফলে যাত্রীরা এর সুফল ভোগ করবেন।’ কোচের মান চুক্তি অনুযায়ী ঠিক রাখার জন্য ঠিকাদারকে অনুরোধ জানান তিনি।

এ সময় মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘এই যাত্রীবাহী ক্যারেজের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে স্টেইনলেস স্টিল বডি, বায়ো-টয়লেট যুক্ত থাকবে। স্বয়ংক্রিয় এয়ার ব্রেক ব্যবস্থা। স্বয়ংক্রিয় স্লাইডিং ডোরসহ আধুনিক সুবিধা যুক্ত থাকবে। ১৫০টি কোচের মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্লিপিং বার্থ ৩০টি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ ৩৮টি, শোভন চেয়ার মোট ৪৪টি, খাবার গাড়িসহ শোভন চেয়ার কোচ ১৬টি। পাওয়ার গাড়িসহ শোভন চেয়ার কোচ ১২টি। রাষ্ট্রীয় পরিদর্শনের জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ি একটি। খাবার গাড়ি একটি, পাওয়ার গাড়ি একটি এবং পরিদর্শন কার একটি।’

কোচ সংগ্রহ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে অতি পুরাতন ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ প্রতিস্থাপন এবং মিটারগেজ ও ডুয়েলগেজ সেকশনে যাত্রীবাহী ক্যারেজের স্বল্পতা দূরীভূত করা, আধুনিক, নিরাপদ ও উন্নত যাত্রীবাহী ক্যারেজের মাধ্যমে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা, বর্ধিত যাত্রী চাহিদা মেটানোর জন্য নতুন ট্রেন চালু করা, বাংলাদেশ রেলওয়েতে মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করা, বাংলাদেশ রেলওয়ের মিটারগেজ ও ডুয়েলগেজ সেকশনে নিরাপদ ও উন্নত ট্রেন পরিসেবা নিশ্চিত করা, বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব বৃদ্ধি করা এবং ক্রমবর্ধমান যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিষেবা বৃদ্ধি করা।

এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা, রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। #