বন্যা ও ভাঙনে দিশাহারা মানুষ, সামান্য পানি কমলেও কমেনি দুর্ভোগ


মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম : সকল নদ-নদীর পানি সামান্য কমলেও কমেনি বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট আর দুর্ভাগ। কুড়িগ্রামের বানভাসি দুর্গত প্রায় সকল মানুষ গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি নিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিদারুণ কষ্টে দিন কাটছে। দীর্ঘদিন বন্যার পানিতে নলকূপগুলো ডুবে থাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট ও বন্যার পানিতে পয়ঃনিষ্কাশনের জায়গা তলিয়ে বিপাকে পড়েছে সকল বানভাসিরা।

বিশাল ক্ষয়-ক্ষতির মুখে পড়েছে মাছচাষী ও সকল প্রকার চাষ-আবাদি কৃষকেরা। দুর্গত এলাকায় গবাদিপশুর খাদ্যসহ সকল খাদ্য সংকট অব্যাহত রয়েছে। পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বন্যাদুর্গতরা যত্রতত্র মল-মূত্র ত্যাগ করছেন।

টানা মাসব্যাপী বন্যা আর নদীভাঙনে শিশু, বৃদ্ধ, গবাদি পশু নিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে লাখ লাখ মানুষ। আশ্রয় কেন্দ্র, উঁচু সড়ক ও বাঁধে আশ্রয় নিয়ে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগির সঙ্গে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন বানভাসিরা। সংকট রয়েছে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের। অন্যদিকে টানা বন্যায় ফসল নষ্ট হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় কৃষক। মাছের ঘের ভেসে যাওয়ায় পথে বসেছেন অনেক মাছচাষি। পাশাপাশি নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে রাতারাতি আমির থেকে পথের ফকির হয়ে গেছে অনেক পরিবার। মাত্র ২ মিনিটে চোখের সামনে ব্রক্ষপুত্র ও তিস্ত নদীগর্ভে চলে যেতে দেখেছেন পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া সম্পত্তি, তিল তিল করে গড়া নিজের ঘরবাড়ি। তারাও এখন পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু সড়ক ও বাঁধে। পথ চেয়ে আছেন সরকারি ত্রাণের জন্য।

কুড়িগ্রামের সব কটি নদ-নদীর পানি সামান্য কমেছে। জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ৫৮টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়ে পড়ায় ৬’শতাধিক গ্রামের অন্তত ৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের গ্রামগুলো প্লাবিত রয়েছে। এবারের বন্যায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিচ্ছিন্ন রয়েছে যোগাযোগ ব্যাবস্থা। পানি বন্দি এলাকার মানুষের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম নৌকা। হাজার হাজার পরিবার পরিজন বসবাস করেণ নৌকায়। বড় রাস্তার দু’ধারে উঁচু স্থানে বানভাসীদের তাবুতে গবাদি পশুর সাথে অনেকের বসবাস।

কুড়িগ্রাম : করোনা পরবর্তী বন্যার্তদের মাঝে সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলেও এনজিওরা হাত গুটিয়ে বসে আছে বলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানিয়েছেন। এদিকে, পানিবন্দী থেকে কিছুটা মুক্তি মিললেও এখন ভাঙা বাড়িঘর ও সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে চিন্তিত বন্যার্তরা।