জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনাই সরকারের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ – মুসলিম লীগ


প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ- সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ইস্যুতে গোটা পুলিশ প্রশাসন তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে। মহামারী করোনা মোকাবেলায় পুলিশ প্রশাসনের মৃত্যুভয়কে পরোয়া না করে, সামনের সারিতে দাড়িয়ে দায়িত্ব পালনের অসাধারণ ভূমিকাকেও যা ম্লান করে দিয়েছে। সত্যিকার অর্থে গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, সীমাহীন দুর্নীতি, একদলীয় গণতন্ত্র, বিরোধী দলকে বিকল করে রাখা, ভোটার বিহীন নির্বাচন, রাতের আধারে ভোট হয়ে যাওয়া, মত প্রকাশে স্বাধীনতার অভাব ইত্যাদি কারণে সাধারণ জনগণের মনে রাজনীতি ও সমাজ ব্যবস্থার প্রতি এক ধরণের নিঃস্পৃহতা ও বিরাগ তৈরি হয়েছে। হালে মহামারী করোনা ও বন্যা জনিত কারণে সৃষ্ট চলমান অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, চাকুরী চ্যুতি, বেকারত্ব, বিদেশী রেমিটেন্সের প্রবাহ কমে যাওয়া ইত্যাদি কারণে জনমনে তীব্র হতাশা কাজ করছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে শাহেদদের মতো সুবিধাভোগীদের ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র, স্বাস্থ্যসেবা খাতের দৈন্য দশা প্রকাশিত হয়ে পড়া, হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরে অসহায় অবস্থায় রাস্তায় বিনা চিকিৎসায় নিকটজনের মৃত্যু দৃশ্য অবলোকন, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ও চিকিৎসা সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, ত্রানকার্যে অনিয়ম-পক্ষপাতিত্ব-দুর্নীতি প্রভৃতি, সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করছে। হতাশা, ক্ষোভ, নিঃস্পৃহতা ইত্যাদির যৌগিক সম্মিলনে জনগণ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি একধরনের আস্থা সংকটে ভুগছে। এই আস্থা সংকট তীব্র হলে অথবা জনগণ আস্থা পুরোপুরি হারিয়ে ফেললে জাতিয় পর্যায়ে ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে আসতে পারে যা আসলে সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে বলে সভায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। সরকারের উচিত তৎপরতার সাথে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা।

আজ (০৮ আগস্ট, ২০২০) দুপুর ২.০০টায় বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ৪৫তম পুন:র্গঠন দিবসে পদার্পণ উপলক্ষে পল্টনস্থ প্রধান কার্যালয়ে দলীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত মন্তব্য করেন। স্বাস্থ্য বিধি মেনে সীমিত আকারে আয়োজিত এ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলীয় মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, স্থায়ী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন আবুড়ী, অতিঃ মহাসচিব আকবর হোসেন পাঠান, কাজী এ.এ কাফী, সাংগঠনিক সম্পাদক খান আসাদ, কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার ওসমান গনী, এড. হাবিবুর রহমান, মোঃ নূর আলম, আব্দুল আলিম, আব্দুর রহমান প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রাকৃতিক বহুমুখী সংকটের যে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে তা মোকাবেলায় নিরবচ্ছিন্ন জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন। বিভিন্ন মহল থেকে বারংবার সর্বদলীয় ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাবকে সরকার অজানা কারণে গ্রাহ্য করছে না। এ বিষয়ে সরকারকে অবিলম্বে একটি সর্বদলীয় সংলাপ আহ্বানের জোর দাবী জানান নেতৃবৃন্দ। সভায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে সুবিচারের দাবী জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রদীপ-লিয়াকতদের মত পথভ্রষ্টদের জন্যই আজ প্রশাসনে যারা সত্যিকার অর্থেই জনগণের সেবক তারাও আজ বিতর্কিত। প্রশাসনিক পদবী ও পোশাকের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্যান্য প্রদীপ-লিয়াকতদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার দাবী জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, এটাই হতে পারে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ। #