পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া খনিতে ১৩৯ দিন পর পাথর উত্তোলন শুরু


শাহাজুল ইসলাম : দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী (পাথর খনি) খনি বশ্বিক মহামারী করোনার কারণে ১৩৯ দিন বন্ধ থাকার পর উত্তোলন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে খনির ঠিকাদারি বেলারুশিয়ান প্রতিষ্ঠান জার্মানীয়া-ট্রেষ্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)। গত ২৬ মার্চ থেকে মধ্যপাডা গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড এর ভূগর্ভ হতে পাথর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার থেকে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্য বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করে সীমিত পরিসরে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগষ্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ১ হাজার ফুট নীচে প্রোডাকশন লেভেলে পাথর উৎপাদন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মধ্যপাডা গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড (এমজিএমসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম কারুজ্জামান।

শুক্রবার দুপুরে মধ্যপাডা গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবিএম কারুজ্জামান বলেন, কাজে যোগদানের পূর্বে মধ্যপাড়া পাথর খনির ১৭৪ জন শ্রমিকের শারিরীক সুস্থ্যতা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ল্যাবরেটরি মেডিসিন এন্ড রেফারেল সেন্টার শেরে বাংলা নগর ঢাকায় পাঠানো হয়। গত বৃহস্পতিবার আসা সেগুলোর ফলাফলে ৯ জন করোনা সনাক্ত হয়। করানো সনাক্ত ৯ জন শ্রমিক বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন। শারিরীকভাবে সুস্থ্য না হওয়ায় এই ৯ জন বাদে অন্যরা কাজে যোগদান করেন। তিনি খনির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় তিনি সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটির তথা দেশের স্বার্থে পাথর খনি যেন নিরলসভাবে কাজ করে যেতে পারে এজন্য সকলের নিকট দোয়া কামনা করেন। তিনি আরও বলেন, খনি উন্নয়ন ও নতুন স্টোপ কাজ শেষ হলে মাসের শেষের দিক থেকে পুরোদমে পাথর উৎপাদনে যাবে।

খনির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খনির ঠিকাদারী বেলারুশিয়ান প্রতিষ্ঠান জার্মানীয়া-ট্রেষ্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)’র সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ডের কারনেই প্রায় এক যুগ পর প্রথমবারের মতো লাভের মুখ দেখেছে দেশের একমাত্র এই গ্রানাইট শিলা খনিটি। পাথর খনি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে খনি থেকে ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯৪ টন পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। এসময়ে বিক্রি হয়েছে ৭ লাখ ৩১ হাজার ১৯৪ টন পাথর। এ থেকে মুনাফা হয়েছে ১১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। জিটিসি খনির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খনিটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে খনি উন্নয়ন ও নতুন স্টোপ নির্মানসহ পাথর উত্তোলনে শতাধিক বিদেশী খনি বিশেষজ্ঞ ৭শতাধিক খনি শ্রমিক তিন শিফটে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।