কালভার্টের শ্লেভ ভেঙ্গে ২০ হাজার লোকের নিত্য দূর্ভোগ


শেখ আশিকুন্নবী সজীব,ফেনী প্রতিনিধি :
ফেনীতে একটি কালভার্টের শ্লেভ ভেঙ্গে যাওয়ায় গত দুই মাস থেকে এলাকার প্রায় ২০ হাজার লোককে প্রতিনিয়ত দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ কালভার্টটি ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের ফেনী-সোনাগাজী সড়কের বালুয়া চৌমুহনী বাজার থেকে কুঠিরহাট হয়ে তাকিয়া বাজার সড়কের তেলী বাড়ী এলাকায় অবস্থিত।
স্থানীয় লোকজন জানায়, বালুয়া চৌমুহনী বাজার থেকে কুঠিরহাট হয়ে তাকিয়া বাজার সড়কের গজারিয়া খালের পাড়ে এ সড়কের তেলী বাড়ী সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত কালভার্টটির ওপরের শ্লেভের বড় একটি অংশ গত প্রায় দুই মাস আগে ভেঙ্গে যায়। ফলে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী লোকজনকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। এ সড়ক দিয়ে ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের লোকজন ছাড়াও সোনাগাজী উপজেলা চর মজলিশপুর ও বগাদানা ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন বালুয়া চৌমুহনী হয়ে ফেনী শহর এবং সোনাগাজী উপজেলা সদরে যাতায়াত করে থাকে। শ্লেভ ভেঙ্গে যাওয়ায় প্রথমে ওই সড়কে যোগাযোগ সম্পূর্ন বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্যোগ নিয়ে দুটি পুরানো কাঠের তক্তা ওই ভাঙা স্থানের ওপর বসিয়ে দেয়। এতে পথচারী পারাপার ছাড়াও সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ও ব্যাটারী চালিত রিক্সা চলাচল করা শুরু হয়। তবে ওই ভাঙ্গা অংশে কাঠের তক্তা দেওয়া এক মূখী চলাচলের ব্যবস্থা হয়। ফলে একটি অটোরিক্সা পারাপারের সময় বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিক্সাটি তখন দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
সোনাগাজীর কুঠিরহাট বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, কালভার্টের শ্লেভ ভেঙ্গে যাওয়ায় তাঁরা এখন বিকল্প পথে বেশী ভাড়া দিয়ে মালামাল পরিবহন করতে হয়।
ধলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল হক বাবুল জানায়, ভাঙ্গা শ্লেভটি মেরামতের জন্য উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় ধলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার আহম্মদ মুন্সী জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) এ সড়কে গত কয়েক বছরে একাধিক বার সংস্কার, মেরামত ও উন্নয়ন কাজ করেছে। কিন্তু তেলী বাড়ীর পাশের এ কালভার্টটি অনেক পুরোনো। এটি সংস্কার মেরামত হয়নি। কালভার্টের শ্লেভ ভেঙ্গে যাওয়ার পর তিনি সেটি দেখেছেন। শ্লেভটি পুনঃস্থাপনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এলজিএসপি প্রকল্প গ্রহন করে উপজেলায় জমা দেওয়া হয়েছে। বরাদ্ধ পেলেই কাজ করা হবে।
ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা জানান, চলতি বছরের বাজেট এখনো পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে পরামর্শ করে কালভার্টের শ্লেভটি দ্রুত পুনঃনির্মানের মাধ্যমে এলাকাবাসীর দ্রুত চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। #