কুড়িগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনে শেষ মুহুর্তের প্রচারনায় ব্যাস্ত প্রার্থীরা ॥ সোমবার ভোট


আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী কাজিউল এবং বিএনপি’র বেবু’সহ-৫

মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম : পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো পৌর এলাকা। বিরামহীন ছুটে চলছে ভোটারের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীগণ। ভোটের প্রার্থনা করছেন বিনয়ের সাথে। ভোটের মাঠে রয়েছেন সাবেক সচিবসহ ভিআইপি ব্যাক্তি। এরই মধ্যে প্রায় সকল প্রস্তুতি শেষে আগামীকাল সোমবার ২৮ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে চুড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান ও কুড়িগ্রাম পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক দলীয় মনোনীত প্রার্থী মো: কাজিউল ইসলাম নৌকা মার্কা, বিএনপি দলীয় মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বেবু ধানের শীষ। এছাড়াও মেয়র পদে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন মো: সাইদুল হাসান দুলাল (আওয়ামীলীগ) প্রতিক জগ, মো: আবু বকর সিদ্দিক সাবেক মেয়র (বিএনপি) প্রতিক নারিকেল গাছ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা মো: আব্দুল মজিদ হাতপাখা মার্কা।

সকল প্রার্থীগণ দলীয় এবং স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে মাঠে-ময়দানে, হাট-বাজার, হোটেল, চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ স্থানগুলোতে এ আলোচনা সরগরম। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ক্ষমতাশীন রাজনৈতিক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলীয় নেতা কর্মীরা জড়িয়ে পড়েছে ভোটের হিসেব-নিকেশের আলোচনায়। এখন আর সংঘাত সংঘর্ষ নয়। রাজনৈতিক দলীয় প্রার্থীকে নির্বাচনে জয়ী করার প্রত্যয়ে যেন রাজনৈতিক দলীয় নেতাকর্মীরা এখন ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে। এর পড়ও সাধারণ ভোটারগণ ভোট কেন্দ্রে সহিংসতার আশংকায় রয়েছে।

৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ২৭ বর্গকিলোমিটারের আয়তনের কুড়িগ্রাম পৌরসভাটির অবস্থান ধরলা নদীর কোলঘেষে পশ্চিম প্রান্তে ঘোষপাড়া এলাকায় অবষিÍত। যার পথচলা শুরু হয় ১৯৭২ সালে। কুড়িগ্রাম পৌরসভার লোক সংখ্যা প্রায় ২ লাখ। এর মধ্যে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। পৌরসভাটি ১৯৭২ সালে যাত্রা শুরু করে ৩৪ বছর পর ২০০৬ সালে প্রথম শ্রেণির মর্যাদালাভ করে। এর পর ২০১৬ সালে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন জনাব আব্দুল জলিল সরকার। চলতি নির্বাচনে দলীয়ভাবে তাকে বাদদিয়ে পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: কাজিউল ইসলামকে দলীয় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়। অপরদিকে বিএনপি’র দলীয় মনোনীত সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিককে বাদদিয়ে শফিকুল ইসলাম বেবুকে ধানের শীষ প্রতিক দেয়ায় দু’জনই ভোটের মাঠে থাকায় এবারের ভোটের হিসেব শেষ পর্যন্ত অন্যরকম হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভোটারগণ। তবে শেষ পর্যন্ত জয়ের মালা কে পড়বে তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। শেষ মুহুর্তের প্রচারনায় ব্যাস্ত প্রার্থীরা। রাত কাটাচ্ছে নির্ঘুম। ছুটে চলছে ভোটারদের বাসগৃহে। অনুরোধের শেষ নেই। নিজেদের পক্ষে জয় ছিনিয়ে নিতে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। ভোটাররাও এলাকার উন্নয়নে প্রার্থী বাছাই নিয়ে করছেন চুলছেড়া বিশ্লেষন। এ নির্বাচনে ২৪টি ভোট কেন্দ্রে ৫৬ হাজার ৩শ ৯৫ জন ভোটার ইভিএম এর মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রদান করবেন বলে চুড়ান্তভাবে জানাগেছে।

এছাড়াও ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করেছেন।

ভোট গ্রহনের জন্য কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি শেষ। ভোট কেন্দ্রে কোনো প্রকার অপৃতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য পর্যাপ্ত পরিমান আইনশৃংলা বাহিনী নিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও অতিরিক্ত ফোর্স রেডি করা আছে বলেও জানা গেছে।

জানা যায়, ২৪টি ভোট কেন্দ্রে আইনশশৃংখলার দায়ীত্বে ভোটের ডিউটিতে রাখার জন্য সরকারী নির্দেশে প্রশিক্ষিত আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মধ্য থেকে আনসার ও ভিডিপি সদস্য বাছাই করা হয় গত ২২ ডিসেম্বর। এরপর ওই অফিসে কর্মরত কর্তাগণ শান্তি রানির সুপারিশে তাদের ইচ্ছামত দেন দরবারের মাধ্যমে সদস্য যাচাই বাচাই করে ২০৯ কে চুড়ান্ত করে ডিউটিতে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে। এর মধ্যে পুরুষ ১৩৭ জন এবং মহিলা ৭২ জন। অনিয়মের ব্যপারে ওই অফিসে কর্মরত আনসার অফিসার সেকেন্দার আলীর সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, অনিয়ম হওয়ার কথা নয়, যদি হয়ে থাকে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

জেলা নির্বাচন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম রাকিব জানান, নির্বাচন সুষ্ঠ করতে আইন শৃংখলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইভিএম এ ভোট গ্রহনের জন্য কেন্দ্রে কেন্দ্রে মক ভোটিং করা হয়েছে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।