কুড়িগ্রামে শৈত্য প্রবাহে স্থবির জনজীবন, বাড়ছে রোগির, কষ্টে শ্রমজীবিরা


মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম থেকে : গতকাল শনিবার সারাদিন সুর্যের মূখ দেখা যায়নি। ভারতের হিমান্চল মেঘালয় ও আসাম প্রদেশের সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের উত্তরান্চলের অবহেলীত ও দরিদ্র জেলা কুড়িগ্রামের উপর দিয়েু টানা ৩ দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ আর হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। জেলায় দিনের বেশিরভাগ সময় সুর্যের দেখা না মেলায় নিম্নগামী হয়ে পড়ছে তাপমাত্রা। সাথে উত্তরীয় হিমেল হাওয়া কনকনে ঠান্ডার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে এ জনপদে। এ অবস্থায় বিকেল হলেই ঘন-কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে প্রকৃতি এবং তা অব্যাহত থাকছে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত।

এদিকে জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তাসহ ১৬ টি নদ-নদীর অববাহিকায় ৩শতাধিক চরান্চলের মানুষ গরম কাপড়ের অভাবে নিদারুন কষ্টে দিনাতিপাত করছেন শ্রমজীবী দরিদ্র পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধরা। বিশেষ করে কৃষি শ্রমিক ও মৎস্য জীবিরা পরিবার পরিজন নিয়ে সবচেয়ে বেশী বিপাকে পড়েছেন। হীমেল হাওয়া আর কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে সময়মত কাজে বের হতে পারছেন না অনেক শ্রমিক। কমে গেছে তাদের আয় রোজগার। অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের ব্যার্থ চেষ্টা করছেন।

অপরদিকে ঠান্ডার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে জেলার হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে প্রতিদিনই ইনডোরের পাশাপাশি আউটডোরে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে অন্ত:ত ৫শ থেকে ৬শ রোগী।

স্থানীয় কৃষি আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক সুবল চন্দ্র জানায়, জেলার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বৃহস্পতিবার ৮ দশমিক ১ ডিগ্রী, শুক্রবার ৯ ডিগ্রী এবং শনিবার সকালে ১০.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আরও কয়েকদিন তাপমাত্রা নি¤œগামী থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

এখানে উল্লেখ্য ২০১৮ সালের জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে মাঝা-মাঝি সময় ১৮ জানুয়ারী পর্যন্ত সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ৩ থেকে ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসে উঠানামা করছিল।

অপরদিকে কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে দ্বিতীয় ধাপে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শনিবার সকাল থেকে হয়েছে। এই পৌরসভায় ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য ব্যালট ছাড়া অন্যান্য সরঞ্জামাদি কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এসব সামগ্রী কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। নাগেশ^রী পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ডে ভোট কেন্দ্র ২২টি। ভোটকক্ষ ১৪৬টি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভোট গ্রহন চলছে।

এই পৌরসভায় মেয়র পদে ৫জন, কাউন্সিলর পদে ৪৩জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এখানে মোট ভোটার ৪৬হাজার ৮৫৮জন। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাব, পুলিশ বিজিবি ও আনসার সদস্যরা মাঠে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন ও রির্টানিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম রাকিব।