কুড়িগ্রামের কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়ায় : তাপমাত্রা ৫ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস


মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম : হিমেল হাওয়া প্রচন্ড শীত ও কনকনে ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়েছে উত্তর জনপদের অভাবী কুড়িগ্রামের মানুষ। গত সপ্তাহের কয়েকদিন এবং চলতি সপ্তাহের শনিবার দিনভর সুর্যের দেখা না মেলায় উত্তরীয় হিমেল হাওয়া বাড়িয়ে দিয়েছে হিমীয় ঠান্ডার মাত্রা। এ অবস্থায় ব্যাহত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা।

এর আগে গত তিনদিন ধরে দিনের বেলা সামান্য সময় সুর্যের দেখা মিললেও রাত ৮ টার পর ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল প্রকৃতি এবং তা অব্যাহত ছিল সকাল ১১টা থেকে প্রায় ১ টা পর্যন্ত। গত মঙ্গলবার বেলা গড়িয়ে গেলেও মেলেনি সুর্যের দেখা। কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল প্রকৃতি।

ঠান্ডার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন জেলার মৎস্য জীবি ও কৃষি শ্রমিকরা। বোরো চাষের ভরা মৌসুম চললেও কনকনে ঠান্ডায় শ্রমিকরা ঠিকমত মাঠে কাজ করতে না পারায় ব্যাহত হয়ে পড়েছে বোরো আবাদ।

কনকনে ঠান্ডায় গরম কাপড়ের অভাবে দুর্ভোগ বেড়েছে ছিন্নমূল, হতদরিদ্র পারিবারের শিশু ও বৃদ্ধরা।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের কৃষি শ্রমিক আরমান আলী জানান, এই ঠান্ডায় এমনিতেই হাত-পা বাইরে রাখা মুশকিল হয়ে পড়েছে। তার উপর পানিতে নেমে রোয়া লাগানো অসাধ্য হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম শহরের রিকসা চালক আলম মিয়া জানান, গত কয়েকদিন রাতের বেলা ঠান্ডা বেশি থাকলেও দিনের তেমন ঠান্ডা ছিল না। কিন্তু এখন যে অবস্থা তাতে গরম জামা কাপড় গায়ে লাগিয়ে রিকসা নিয়ে বেরিয়েছি। টেকা যাচ্ছে না। শিরশির বাতাস জামা-কাপড় ভেদ করে ভিতরে ঢুকছে।

অন্যদিকে টানা শীতে জেলার হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে শীত জনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা শীত জনিত রোগে।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. পুলক কুমার সরকার জানান, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ২৫ জন ডায়রিয়া ও ৬ জন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। স্বাভাবিকের চেয়ে গত ১৫ দিন ধরে রোগীর সংখ্যা একটু বেশি বলে জানান তিনি।

স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষনকারী সুবল চন্দ্র সরকারের সাথে মুঠোফোনে কথা বলে জানা যায়, গতকাল রোববার জেলার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। যা চলতি শীত মৌসুমের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ অবস্থা আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।