পার্বতীপুরে দেদারছে চলছে কোচিং বাণিজ্য : নোট গাইড বই চালানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন


শাহাজুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক :
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সরকারী নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দেদারছে চলছে কোচিং বাণিজ্য। এ কোচিং এর সাথে এমপিও ভূক্ত, নন এমপিওভূক্তসহ বেকার শিক্ষিত যুবকরা শিক্ষক হিসেবে পাঠদানের সাথে জড়িত আছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার ৫নং চন্ডিপুর ইউনিয়নের দোয়ানিয়া-তেরআনিয়া গ্রামে অবস্থিত পাঠশালা স্কুল এন্ড কলেজে গিয়ে দেখা যায় সে চিত্র। ৪র্থ শেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত কোচিং চলছে। কোচিং ক্লাস নিচ্ছেন এমন শিক্ষক শিক্ষিকারা তা অকপটে ম্বীকার করেন। কোচিংয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের কাছে জন প্রতি ৫ শত টাকা মাসিক বেতন নেওয়া হয়।

জানা যায়, এ পাঠশালা নামের স্কুলটি ২০১৬ সাল থেকে শুরু হয়েছে। পাঠদানে অনুমতি, সরকারী অনুমোদন কোনটিই পায়নি। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন তুহিন উম্মূক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী পাশ করে এ প্রতিষ্ঠানটি খোলেন। তিনি বলেন, এরকম কোচিং সবাই চালাচ্ছে, উপজেলার সর্বত্রই চলছে। আমার কোচিং চালানোর সাথে জড়িত থাকার জন্য যদি জেলও হয় তাও মেনে নিব। তার অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার ১০ ইউনিয়নের সর্বত্রই কিন্ডার গার্টেন স্কুল গুলোতে কোচিং সেন্টার সারা বছর ব্যাপি চালিয়ে আসা হচ্ছে। এর মধ্যে শহরের আলো কোচিং সেন্টার, বছির বানিয়া বাজারে অবস্থিত বেগম রোকেয়া কিন্ডার গার্টেন স্কুল, সরদার পাড়া গ্রামের ব্রাইটেন মডেল স্কুলসহ যশাই, ভবের বাজার ও দাগলাগঞ্জে অবস্থিত বিভিন্ন স্কুলের নাম বলেন তিনি।

এদিকে পার্বতীপুর উপজেলার ২০৭ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তথাকথিত সহায়িকা বই চালানোর জন্য ইতিমধ্যে

উল্লেখিত বিদ্যালয় সমুহের প্রধান শিক্ষকগন লেকচার পাবলিকেশন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন ও উৎসব প্রকাশনীর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এসব বিদ্যালয় থেকে নির্দিষ্ট সহায়িকা বই কেনার জন্য বুকলিস্ট ছাড়া হয়েছে। তাছাড়াও প্রকাশনীর প্রতিনিধিরা তাদের বই চালানোর জন্য নিয়মিত স্কুলগুলোতে যোগাযোগ রাখছে।

অপরদিকে, উপজেলার ৬৯টি হাই স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণি হতে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত এনসিটিবি প্রকাশিত ও সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে দেওয়া ইংরেজি গ্রামার ও বাংলা ব্যকরণ বইয়ের পরিবর্তে অক্ষরপত্র প্রকাশনী, লেকচার পাবলিকেশন ও কাজল ব্রাদার্স লিঃ এর গ্রামার এবং ব্যকরণ বই পাঠদানের জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে মোটা অংকের উৎকোচ প্রদান করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পার্বতীপুর মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনস্কুল, বিএমএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আইডিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দেগলাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, সেরাজুল হুদা উচ্চ বিদ্যালয়, আমবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় পাঞ্জেরী পাবলিকেশন এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। উপজেলার হাবড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরদার মুনিম উচ্চ বিদ্যালয়, ইন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়, জ্ঞানাঙ্কুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, পার্বতীপুর এএসএম উচ্চ বিদ্যালয়, জমিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, বাসুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়সহ প্রায় ৩০টি বিদ্যালয়ে লেকচার পাবলিকেশনের গ্রামার ব্যকরণ ও তথাকথিত সহায়িকা বই (গাইড বই) পড়ানোর জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাশিদ কায়সার রিয়াদ বলেন, কোচিং বাণিজ্য ও নোট গাইড সম্পর্কে অভিযোগ পেয়েছি।প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।