মহেশপুরের ফসল রক্ষার অজুহাতে ফাঁদ পেতে নির্বিচারে কালোমুখো হনুমান হত্যা!


জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ :
ঝিনাইদহের মহেশপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চল ভবনগর গ্রামের সুদীর্ঘকাল ধরে বসবাস করে আসছে বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান। পরিবেশবান্ধব এই প্রানীটি বর্তমানে চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

প্রায়ই স্থানীয়রা ফসল রক্ষার অজুহাতে ফাঁদ পেতে এসব হনুমান নির্বিচারে হত্যা করছে। দেড় যুগ আগে অর্ধশতাধিক হনুমান হত্যা করে স্থানীয় এক কৃষক। সেসময় হনুমান হত্যার ঘটনাটি দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। ফলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় সীমান্তঘেষা মহেশপুর উপজেলার ভবনগর গ্রামের বনে-জঙ্গলে এসব হনুমান বাস করছে। সম্প্রতি খাদ্য সংকট ও গাছগাছালি নিধনের কারণে লোকালয়ে চলে আসছে এসব হনুমান। ফলে মৌসুমি ফসল ক্ষতি করায় এলাকার মানুষ ফাঁদ পেতে হনুমান মারছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, তাদের পূর্ব পুরুষের সময় থেকে এই হনুমান দেখে আসছেন। দেড় দশক আগে ভবনগর গ্রামের জনৈক ব্যক্তি চৈত্র মাসে পানি খাওয়ার জন্য হনুমান দল বেঁধে তার বাড়ি আসলে পানির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ২০-৩০টি হনুমান মেরে ফেলে। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন তাকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। তারপর থেকে হনুমান মারা বন্ধ ছিল। বর্তমানে খাদ্য সংকটের কারণে পেয়ারা, পেঁপে, কলা, আমসহ নানা ধরনের ফসলের ক্ষতি করায় কৃষকরা ফাঁদ পেতে হনুমান মারছে। ভগনগর গ্রামের নাজমুল ইসলাম জানান, আগে এখানে কয়েকশ হনুমানের বাস ছিল। বর্তমানে তা কমে একশর মধ্যে চলে এসেছে। হনুমান রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারি ভাবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

শ্যামকুড় ইউপি চেয়ারম্যান আমানউল্লাহ জানান, খাদ্য সংকটের কারণে হনুমানরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া হনুমান ক্রমেই কমে যাচ্ছে। খাদ্যাভাব দূর হলে হনুমানের উৎপাত কমে যাবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাশ্বতী শীল জানান, কেউ যদি হনুমান মারে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বন্যপ্রানী হত্যা আইনে মামলা করা হবে। এ ছাড়া খাদ্য সংকটের সমাধানে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান।