কুড়িগ্রামে ভুট্টার বাম্পার ফলন : চাষীর মূখে হাসি


মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুরের নদ-নদীর প্রায় দুই শতাধিক চরাঞ্চলসহ জেলার ৯ উপজেলায় এ বছর ভুট্টা চাষে বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা কৃষকদের। বিশেষ করে উলিপুর, রৌমারী ও রাজিবপুরে সবচেয়ে বেশি ভুট্টা চাষ সাড়া জাগিয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এবার জেলার সব কটি উপজেলাতেই গত বছরের তুলনায় ভুট্টা চাষ বেশি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাম্পার ফলনও হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কাক্সিক্ষত ফল প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ভুট্রা চাষী কৃষকরা জানান, ধান, গম ও অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টা চাষ বেশি লাভ হওয়ায় কম খরচে অধিক মুনাফার আশায় বিকল্প ফসল হিসেবে এ চাষের দিকে তাদের ঝোঁক বেশি। এ ভুট্টা চাষ করে বেশি লাভের স্বপ্ন দেখছেন তারা। কৃষি বিভাগ বলছে, ভুট্টা একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল।

ক্রমাগত খাদ্য চাহিদা মেটাতে গমের বিকল্প হিসেবে মানুষের খাদ্যের পাশাপাশি মাছ, হাঁস-মুরগি ও গো-খাদ্য হিসেবে ভুট্টার ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় এর চাহিদাও বেড়েছে অনেক বেশি। ভুট্টা গাছের পাতা সুষম গো-খাদ্য এবং কান্ড জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে একদিকে যেমন কৃষক তার গবাদি পশু পালন ও জ্বালানি চাহিদা মেটাতে পারে অপরদিকে বাজারে ভুট্টার ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষক এ ফসলে আগ্রহী হয়ে উঠছে। জেলার উলিপুর, চিলমারী, ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, রাজারহাট, রৌমারী ও রাজিবপুরের চর-দ্বীপচরাঞ্চলে এক সময় কৃষি ফসল হিসেবে গম, চীনা বাদাম, মসুর, মাষকলাই, খেসারি, মুগডাল, বাদাম ও সরিষাসহ নানা ফসলের চাষাবাদ হতো।

বর্তমান সময়ে খাদ্যচাহিদা বেড়ে যাওয়ায়, এখন অল্প সময়ে এবং স্বল্প খরচে ভুট্টা চাষ হওয়ায় সেদিকেই এ দুই উপজেলায় কৃষকরা ঝুঁকছেন বেশি। অন্য ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষকের মাঝে অনেকটা অনীহা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়াও উন্নত জাতের উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের ভুট্টা চাষে মনোনিবেশ করেছেন এখানকার কৃষকরা। উপজেলার ফলুয়ারচর গ্রামের রাকিব মিয়া, সোহেল রানা বলেন, ভুট্টা চাষে অল্প পরিশ্রম, স্বল্প খরচে বেশি ফলন পাওয়া যায়। এ এলাকায় এক শতক জমিতে দুই মণ ভুট্টা হয়। চাষাবাদের খরচের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হয়। ভুট্টার গাছ দিয়ে খড়ি হয়। ভুট্টার পাতা গরু ও ছাগলের খাবার হয়। নদীভাঙন ও বন্যাকবলিত অঞ্চল হওয়ায় ভুট্টা চাষ বাড়ছে। রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, এ বছর রৌমারীতেই উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ৭৮৬ হেক্টর, প্যাওনিয়ার, বেবিলন, কাবেরি-১০০ হেক্টর, কাবেরি-৫০ হেক্টরসহ পরলিব জাতের ভুট্টা চাষ করেছেন চরের কৃষকরা। এ ছাড়া এবার ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বেশ।

উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের বামনাছড়া গ্রামের আতাউর রহমান জানান, জমিতে পানি ও সেচ কম লাগে এবং ফলনও গমসহ অন্য ফসলের তুলনায় বেশি হয় বলে ভুট্টা চাষ করেছি। তিনি বলেন, ৩৩ জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। আশা করছি, বেশ ভালো ফলন পাব। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হক জানান, সবচেয়ে জেলার রৌমারীতেই এ বছর ভুট্টার চাষ বেশি হয়েছে। রৌমারীতে ৩৮৫০ হেক্টর। এ ছাড়াও রাজিবপুরে ২১৫০, সদরে ৪৩০, উলিপুরে ৪৮৫, চিলমারীতে ১২৯০, ভুরুঙ্গামারীতে ৮৫০, নাগেশ্বরীতে ১৩৪০, ফুলবাড়ীতে ১৪২০ এবং রাজারহাটে ৩১০ হেক্টরসহ জেলার ৯ উপজেলায় ১২ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। এ বছর ১ লাখ ৯ হাজার ৩৫ মেট্রিক টন ভুট্টা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।