ট্রেনের টিকিট মজুদের অভিযোগে ৩ জনকে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা : ডিভাইস, মোবাইল, সীম, টিকিট উদ্ধার


সোহেল সানী, পার্বতীপুর :
আজ সোমবার বিকাল ৩টার দিকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট, মোবাইল সীম, পেন ড্রাইভসহ অনলাইন টিকিট সংগ্রহের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- দুই সহোদর পলাশ চন্দ্র রায় (২৫), রতন চন্দ্র রায় (২২), ভাগিনা হৃদয় চন্দ্র রায় (২৩) তাদের দু’জনের বাড়ী পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচন্ডি ইউনিয়নের বান্নিরঘাট গ্রামে। তারা দুজনই প্রভাশ চন্দ্র রায়ের ছেলে। হৃদয় চন্দ্রের বাড়ী দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার কুমোরপুর গ্রামে। সে ধনঞ্জয় চন্দ্র রায়ের ছেলে। তাদের ৩ জনকে ভ্রাম্যমান আদালতে ১৫ দিন করে সাজা দেন। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও পার্বতীপুর উপজেলা কর্মকর্তা (ইউএনও) নাশিদ কায়সার রিয়াদ।

এ প্রতারক চক্রটি সকাল ৬ টায় অনলাইনে প্রবেশ করে টিকিটগুলো কেটে জমা করে রাখে। পরে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে সাধারণ যাত্রীদের কাছে বিক্রি করে।

পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন জানান, রেল ষ্টেশন সংলগ্ন সিঙ্গার মোড়ে কুদ্দুস সুপার মার্কেটে হৃদয় টেলিকম নামে একটি কম্পিউটার দোকানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় দোকান মালিক পলাশ চন্দ্র রায়সহ দুজনকে টিকিটসহ হাতে-নাতে আটক করেন। অভিযানের সময় হৃদয় টেলিকম দোকান থেকে ঢাকা গামী ৩১টি ট্রেনের অনলাইন টিকিট, বিভিন্ন মোবাইল ১৭টি সীম, পেনড্রাইভ, ফেসবুকে টিকিট বিক্রির বিজ্ঞাপন উদ্ধার করেন।

অতিরিক্ত টাকায় টিকিট ক্রয় করে প্রতারিত হওয়া যশাইহাট এলাকার আব্দুস সালাম জানান- আমি চিকিৎসার কাজে ঢাকা যাবো। করোনা ভাইরাসের কারণে রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকায় টিকিট কাউন্টারে টিকিট দেওয়া বন্ধ থাকায় আমি হৃদয় টেলিকম নামে কম্পিউটারের দোকানে যাই। সেখানে নীলসাগর আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট অনলাইনে কাটতে বলি। তাৎক্ষনিক টিকিট না কেটে আমার নিকট সাধারণ আসনের টিকিট বাবদ ১ হাজার ৫শ’ টাকা গ্রহণ করে পূর্বের সংগ্রহ করা টিকিট আমার হাতে দেয়। আমি নিরুপায় হয়ে টিকিটটি নেই। এভাবে অনলাইনে টিকিট বিক্রি করায় হাজারো মানুষ প্রতারিত হচ্ছে।

পার্বতীপুর রেলওয়ে ষ্টেশন মাষ্টার জিয়াউল আহসান বলেন, করোনা ভাইরাস এর কারণে কাউন্টারে টিকিট কাটা বন্ধ আছে। এসুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসৎ ব্যবসায়ী সাধারণ যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে টিকিট বিক্রি করছে। টিকিট মজুদ করে রাখা এটি একটি গুরুতর অপরাধ।

উল্লেখ্য, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মানুষ যখন ট্রেনের টিকিটের জন্য চারিদিকে ছুটাছুটি করছে ঠিক সেই সময় পার্বতীপুরের পলাশ চন্দ্র রায় নামে এক কম্পিউটার ব্যবসায়ী অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করে মজুদ রেখে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা প্রতারনা করে হাতিয়ে নিচ্ছিল। অনলাইনে যাত্রীদের ট্রেনের টিকিক যেন এখন সোনার হরিণ। যাত্রীদের রেল স্টেশন রেখে কমিউটারের দোকানে দোকানে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়।#