পার্বতীপুরে সেচ ব্যবস্থাপনা নীতিমালার বাইরে গভীর নলকুপ স্থাপনে হাইকোর্টে রীট আবেদন


শাহাজুল ইসলাম, পার্বতীপুর :
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সেচ ব্যবস্থাপনা নীতিমালার বাইরে গভীর নলকুপ স্থাপন করায় হাইকোর্টে রীট আবেদন করেছেন ওই এলাকার গভীর ও অগভীর নলকূপ মালিকরা।

জানা যায়, উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের জাহানাবাদ মৌজায় আলীম মাদ্রাসার দক্ষিন পাশের কৃষি জমি আবাদের জন্য একটি গভীর নলকূপ ও ৫টি অগভীর নলকূপের মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার আবাদী জমিতে সেচ প্রদান করে নিজের ও অন্যান্য কৃষকের ইরিগেশন সুসম্পন্ন করে আসছে। এতে কোন কৃষকের সেচের পানির ঘাটতি বা সমস্যা হয়নি। ইতিমধ্যে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ গভীর নলকুপ স্থাপনে সরকারের কৃষি মন্ত্রনালয়ের সমন্বিত ক্ষুদ্র সেচ নীতিমালা-২০১৪ এর ৫.৩.১(ঙ)১ও ২ নং ধারায় উল্লেখিত ভূ-গর্ভস্থ সেচ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা উপেক্ষা করে নজরুল ইসলামের একটি চলমান গভীর নলকূপের কমান্ডিং এরিয়ার মধ্যে গত জানুয়ারী মাসে ৩২৪০ নং দাগে একটি গভীর নলকুপ স্থাপনের জন্য বোরিং করে । মোঃ খতিবর রহমান বাদী হয়ে ওই এলাকার ১ জন গভীর নলকূপ ও ৭ জন অগভীর নলকুপের মালিক পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করলে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপসহকারী কৃষি অফিসার মাহাবুব হোসেন তার তদন্ত প্রতিবেদনে ওই মৌজার ৩২৫১নং দাগে বিএডিসি কর্তৃক ইতিপূর্বে যে গভীর নলকুটি বসানো ছিল তা ২০/২২ বছর যাবত পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে বলে উল্লেখ করেন। এ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রেহানুল হক গত ০৪/০৬/২০১৯ তারিখে বিরোধীয় অকেজো/নষ্ট (পরিত্যাক্ত) গভীর নলকুপ স্থাপনের কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দেন। তারপরও স্ব উদ্যোগী ব্যক্তিবর্গ পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ফি জমা দিয়ে অভিযোগকৃত গভীর নলকূপে বিদ্যুৎ সংযোগ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। এব্যাপারে দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (দিপবিস-২) এর ডিজিএম এহতেশামুল হক বলেন, উপজেলা সেচ কমিটি যদি অনুমোদন দেন তাহলে আমি বিদ্যুৎ সযোগ দিতে বাধ্য, তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা আমাকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

ওই এলাকায় নতুনভাবে গভীর নলকুপ স্থাপন করা হলে বিদ্যুৎ চালিত একটি গভীর ও ৫টি অগভীর নলকুপের মালিকরা অপূরনীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলে তারা মনে করছেন। তাই তারা ২০১৮ সালে ওই নতুন গভীর নলকুপ স্থাপনের পরিকল্পনার সময় থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন। অভিযোগকারীগণ ওই এলাকায় নতুনভাবে গভীর নলকুপ স্থাপন না করার জন্য উপজেলা সেচ কমটির হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এছাড়াও তারা চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারী মহামান্য হাইকোর্টে একটি রীট আবেদন করেন (রীট নং-১০১৮১/২০২০)। হাইকোর্টে রীট থাকা সত্বেও ডিজিএম (দিপবিস-২) বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ভূক্তভোগীরা। এব্যাপারে সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাশিদ কায়সার রিয়াদ বলেন, আদালতের রায় শিরোধার্য, আদালত যে রায় দিবে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। বাদী পক্ষ কাগজপত্র নিয়ে আসলে আইনানুগভাবে সেটি দেখা হবে।