বিভাগের মধ্যে করোনা সংক্রমণের শীর্ষে খুলনা


অনলাইন ডেস্ক : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক থেকে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে খুলনা জেলা শীর্ষে রয়েছে। এ জেলায় সর্বশেষ এক মাসে মারা গেছে ৪০ জন। গত ১৪ মে ঈদুল ফিতরের আগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার উদ্বেগ-জনকহারে বেড়ে ঈদ-পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।

করোনা সংক্রমণ বাড়ার জন্য জন্য স্বাস্থ্যবিধি না মানাকে দায়ী করছে খুলনার স্বাস্থ্য বিভাগ। খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ মঙ্গলবার (১ জুন) দুপুরে রাইজিংবিডিকে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে করোনা বাড়তে থাকবে। যে কোনোভাবেই হোক, জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বাধ্য করতে হবে। খুলনা জেলায় বর্তমান করোনা পরিস্থিতি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

সিভিল সার্জন বলেন, লকডাউনের বিষয়ে আগামীকাল বুধবার (০২ ‍জুন) কোভিড-১৯ খুলনা জেলা কমিটির মিটিং আহ্বান করা হয়েছে। ওই মিটিংয়ে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. রাশিদা সুলতানা বলেন, জেরায় এপ্রিলের শুরু থেকে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। মে মাসের শুরুর দিকে কিছুটা কম থাকলেও পরে ফের বাড়ে। বর্তমানে সংক্রমণে বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে খুলনা শীর্ষে থাকায় বিষয়টি উদ্বেগের বলে উল্লেখ করেন তিনি।

খুলনার সিভিল সার্জন দপ্তরের সূত্র জানান, খুলনায় ভারতফেরত ১৬ জনের নমুনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পরীক্ষার জন্য ঢাকার আইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনো রিপোর্ট আসেনি। ফলে খুলনায় কেউ অতিসংক্রামক ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না তা জানা যায়নি।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র জানান, খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় চুয়াডাঙ্গায়, গত বছরের ১৯ মার্চ। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে সোমবার (৩১ মে) সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় শনাক্ত হয়েছে ৩৪ হাজার ২৯১ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪৫ জনে। আর সুস্থ হয়েছেন ৩১ হাজার ৩৫৮ জন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জেলাভিত্তিক করোনা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা য়ায়, এ পর্যন্ত খুলনা জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ২৯১ জন। মারা গেছে ১৭৬ জন। সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ১৭৬ জন।

একইভাবে বাগেরহাটে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬০৩ জন, মারা গেছেন ৪২ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪০৮ জন। এ পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৬ জন, মারা গেছেন ৪৭ জন, আর সুস্থ হয়েছেন ১ হজার ৩২৯ জন। যশোরে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৯৩০ জন, মারা গেছেন ৮১ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৬ হজার ৩৮৭ জন। নড়াইল জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৮৭৩ জন, মারা গেছেন ২৭ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ হজার ৮১৫ জন। মাগুরায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৫৩ জন, মারা গেছেন ২৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ২০৭ জন।

ঝিনাইদহে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৯০৮ জন, মারা গেছেন ৫৫ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২ হজার ৭৩৬ জন। কুষ্টিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৯৪৬ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ১১২ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৪ হজার ৬৪৮ জন।

চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯৬৮ জন, মারা গেছেন ৬১ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ হজার ৮১৭ জন। আক্রান্তের দিক দিয়ে সর্বনিম্নে রয়েছে মেহেরপুর জেলা। এখানে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯৯০ জন, আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৮৩৫ জন।

জেলায় মে মাসের প্রথম ১৫ দিনে (১ থেকে ১৫ মে) ৪৪৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এরপরের ১৫ দিনে (১৬ থেকে ৩০ মে) পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ৬৪৮ জন। অর্থাৎ ক্রমান্বয়ে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। #