বিদেশ থেকে প্রচুর টাকা পাওয়ার অভিযোগ হেফাজতের বিরুদ্ধে


অনলাইন ডেস্ক : হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী এবং আরেক নেতা মামুনুল হকের প্রচুর টাকা। পাকিস্তানসহ একাধিক দেশ থেকে এসেছে কোটি কোটি টাকা। মাদ্রাসার নামে তোলা সেই টাকা এখন বিদেশে বিনিয়োগ করা হয়েছে। দেশেও কোটি কোটি টাকার গাড়ি-বাড়ি করেছে হেফাজতের নেতারা। অন্তত ৫০ জনের বিরুদ্ধে অর্থ লুটের তথ্য হাতে এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে। এছাড়াও পুলিশ ও বাংলাদেশে ফিনান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফইইউ)-ও হেফাজতের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশি তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন তথ্য।

পুলিশ জানতে পেরেছে, মাদ্রাসার ছাত্রদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে প্রশিক্ষিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করাই ছিল তাদের ঘৃণ্য চক্রান্তের মূল লক্ষ্য। দেশে সহিংসতার পরিবেশ তৈরির জন্য অর্থের অভাব হয়নি হেফাজত নেতাদের। ব্যাংকে মামুনুলের বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬ কোটি টাকা। আর বাবুনগরীর ১২টি ব্যাংকে ৪৪ কোটি টাকার সন্ধান পেয়েছে দুদক।

দেশে হেফাজত নেতারা প্রচুর গাড়ি-বাড়ি করার পাশাপাশি বিদেশেও প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করেছে বিভিন্ন ব্যবসায়। পাকিস্তান ছাড়াও সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন প্রভৃতি দেশে হেফাজতের ১৮টি দোকান, ৩টি বাড়ি, ৪টি হজ এজেন্সি, গাড়ির যন্ত্রাংশের ৫টি দোকান ও ২৫টি লরির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
দুদকের কমিশনার জহরুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, করোনাকালেও তারা হেফাজতের বিরুদ্ধে তদন্তে কোনও ধীরগতি চান না। ৬ সদস্যের কমিটি পুরো বিষয়টি দেখছে। বিএফআইইউ সূত্রের খবর, তারাও হেফাজতের ব্যাংক ও নগদ অর্থের যোগান ও খরচের বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। পুলিশও হেফাজতের শত শত কোটি টাকার উৎসের সন্ধানে ব্যস্ত। ইসলামের নামে হেফাজত নেতারা প্রচুর অর্থ রোজগারই করেননি, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিল। পুলিশি তদন্তে সেইসব দিকও সামনে হচ্ছে।

গোয়েন্দাদের জেরায় মামুনুল জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে তার যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছে আপন দুলাভাই মৌলানা মুফতি মুহাম্মদ নিয়ামতউল্লাহ। পরে তিনি বাংলাদেশে ফিরে জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসায় যোগ দেন। যোগাযোগ হয় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মূল অভিযুক্ত মৌলানা তাজউদ্দিনের সঙ্গে। গ্রেনেড হামলার পর নিয়ামতউল্লাহও গ্রেফতার হয়। কিন্তু তার শ্বশুর আল্লামা আজিজুল হকের ‘খিলাফত মজলিস ছিল’ বিএনপির জোট সঙ্গী। তাই সহজেই মুক্তি পান তিনি। #