পার্বতীপুরে মাস্ক না পরায় পথচারিদের কানধরে উঠবস করালো ইউপি সদস্য


সোহেল সানী, পার্বতীপুর :
লকডাউন বাস্তবায়নে দিনেদুপুরে প্রকাশে রাস্তায় দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পেপার বিক্রেতা ও পথচারিদের কানধরে উঠবস করালো এক ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম।

তিনি পার্বতীপুর উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়ন শাহপাড়া ৩নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। উপস্থিত জনতার সামনে কানধরে উঠবস করে আবার সেই ছবি তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে পোষ্ট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে নিজের কৃতিত্ব জাহির করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে লকডাউনের প্রথম দিনে পার্বতীপুর-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক মধ্যপাড়া বাজারে। এদিকে, পত্রিকা বিক্রেতা ও পথচারিদের রাস্তায় কানধরে উঠবসের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। লকডাউন বিরোধী প্রচারনা চালানোর নামে ইউপি সদস্যের দাপট ও প্রভাব খাটিয়ে পেপার বিক্রেতা ও পথচারিদের মুখে মাস্ক না থাকার কানধরার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়লে বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র নিন্দা ও সমলোচনার ঝড় ওঠে।

মধ্যপাড়া এলাকার সমাজ সচেতন শিক্ষানুরাগী ও মৌলভী ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার এইচ আর হাবিব জানান, পত্রিকা বিক্রেতা ও পথচারিদের কান ধরানো ঘটনায় আমার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। শফিকুল মেম্বারের এমন দ্বায়িত্বহীন আচরণ অত্যন্ত মূর্খতার পরিচয় ছাড়া কিছু নয়। অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, নাগরিকদের অসম্মান করার অধিকার শফিকুল মেম্বার কে কে দিয়েছে? তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

পেপার বিক্রেতা আব্দুল মোন্নাফ আলী জানান, আমি মধ্যপাড়া খনিজ শিল্পাঞ্চল ও আনন্দ বাজার এলাকায় এক যুগের বেশি সময় হতে নিয়মিত পত্রিকা বিক্রি করছি। সেই সুবাদে এই অঞ্চলের খনির অফিসার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ চেয়ারম্যান, মেম্বার রাজনীতিবিদ সবাই পরিচিত। অথচ শফিকুল মেম্বার আমার পকেটে মাস্ক থাকার পরেও জনসম্মুখে আমাকে কান ধরতে বাধ্য করেছে। ফেসবুকে কানধরার ছবি ছেড়ে দিয়ে আমার মান-সম্মান হরন করেছে। আমি এর বিচার চাই।

জোর করে কান ধরে উঠবস বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, শুধু পত্রিকা বিক্রতাই নয়, পথচারিরা নিজেই নিজের কান ধরেছেন। আমি শূধু মাস্ক মুখে দেয়ার কথা বলেছি। এই ইউপি সদস্য আরও দাবি করেন, তারা নিজেরাই কান ধরে ভুল হয়েছে স্বীকারও করেন।