ট্রেন, বাস ও লঞ্চ চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন


অনলাইন ডেস্ক : করোনা মহামারির সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে ১৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। তবে পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আট দিনের জন্য বিধিনিষেধ শিথিল করায় বৃহস্পতিবার থেকে আবার চলাচল শুরু করবে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ। ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে মালিক ও শ্রমিকপক্ষ। করোনার প্রকোপ এখনও মারাত্মক পর্যায়ে থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে প্রতি টিপ শুরু ও শেষে জীবাণুনাশক দিয়ে গাড়ি জীবাণুমুক্ত করতে বলা হয়েছে। এছাড়া পরিবহন সংশ্লিষ্ট মোটরযান চালক, যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান ও স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করার দিকনির্দেশনা আগে থেকেই আরোপ করা রয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, শ্রমিকরা পরিবহনের ধোয়া-মোছার কাজ সেরে নিচ্ছেন। ঈদের আগে গণপরিবহন চালুর খবরে তারা কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে মনে করছেন।

মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে গণপরিবহন চলতে পারবে। এজন্য বাস ও লঞ্চ বুধবার মধ্যরাত থেকেই চলাচল শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর ট্রেন চলাচল শুরু হবে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ঢাকা টাইমসকে জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশনা মেনে এক সিট ফাঁকা রেখে, ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস চলাচল করবে। আগামীকাল বুধবার থেকে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। সরাসরি টিকিট কেনার পাশাপাশি অনলাইনেও কেনা যাবে বাসের টিকিট।

এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘বুধবার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরপাল্লার পরিবহনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। বৃহস্পতিবার থেকে দুই সিটে একজন নিয়ে গাড়ি চলবে। বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়ার উপর ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে ভাড়া নেয়া হবে। কারো বিরুদ্ধে যদি এর থেকে বেশি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ ওঠে সেক্ষেত্রে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

এদিকে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ট্রেন চলাচল। এসময়ে মোট ৫৭টি ট্রেন চলবে। এর মধ্যে আন্তঃনগর ট্রেন রয়েছে ৩৮ এবং মেইল/কমিউটার (লোকাল) ট্রেন ১৯টি।

মঙ্গলবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল আলম রেল চলাচলের বিষয়টি ঢাকা টাইমসকে নিশ্চিত করে বলেন, এই সময়ে শুধু অনলাইনে টিকিট বিক্রি করা হবে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, ১৪ জুলাই বুধবার মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ছয়টা পর্যন্ত যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করবে। ২৩ জুলাই সকাল ছয়টা থেকে ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত যাত্রীবাহী নৌযান পুনরায় চলাচল বন্ধ থাকবে।

ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে এবং যাত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ছয়টা পর্যন্ত নৌযান পরিচালনার অনুরোধ করেছে বিআইডব্লিউটিএ।