কাল থেকে শুরু ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ : মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী


অনলাইন ডেস্ক : নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আগামীকাল শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে আবারও শুরু হচ্ছে ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন (বিধিনিষেধ)। এ সময় শিল্প-কলকারখানাসহ বন্ধ থাকবে সব ধরনের যানবাহন ও অফিস-আদালত। মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে মাঠে থাকবে পুলিশ ও বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনী।

কঠোর বিধিনিষেধের এই সময়ে সরকারের জারি করা নির্দেশনা পূর্ণরূপে মেনে নিজ নিজ অবস্থানে থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। সাংবাদিকদের এক ভিডিও বার্তায় ফরহাদ হোসেন আজ বৃহস্পতিবার বলেন, আগামীকাল (২৩ জুলাই) থেকে পূর্বঘোষিত লকডাউন আগের চেয়ে কঠোরভাবে পালন করা হবে। সরকারি-বেসরকারি—সব ধরনের অফিস বন্ধ থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি মাঠে থাকবে। পোশাক কারখানাসহ সব ধরনের শিল্প-কলকারখানাও বন্ধ থাকবে। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

যাঁরা কর্মস্থল ছেড়ে গ্রামে গেছেন, তাঁদের আসার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিধিনিষেধের প্রজ্ঞাপন বেশ আগেই জারি করা হয়েছে। কাজেই পূর্বঘোষণা থাকা সত্ত্বেও যাঁরা গ্রামে গেছেন, আমরা ধরে নিচ্ছি তাঁরা নিজ নিজ দায়িত্ব নিয়েই গেছেন। তারা বেশ ভালোভাবেই বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি জানেন। তাঁরা কর্মস্থলে ফিরতে চাইলে বিধিনিষেধ মেনেই ফিরবেন। যাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন না, তাঁরা নিজ নিজ অবস্থানে থাকবেন।

সবাইকে বিধিনিষেধ মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, একটু অবহেলা করলেই করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

এদিকে, গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে নিম্নোক্ত তিনটি বিষয়কে বিধিনিষেধের আওতামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

১. খাদ্য ও খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ মিল কারখানা।

২. কোরবানির পশুর চামড়া পরিবহণ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ।

৩. ওষুধ, অক্সিজেন ও কোভিড-১৯ প্রতিরোধে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদনকারী শিল্প।

এরআগে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওই প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ২৩ জুলাই ভোর ৬টা থেকে ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত ফের কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।

ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন, জনসাধারণের যাতায়াত, ঈদ পূর্ববর্তী ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা হলো। তবে, এ সময়ে জনসাধারণকে সতর্কাবস্থায় থাকা এবং মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

এ ছাড়া ২৩ দফা নির্দেশনা দিয়ে ঈদের তৃতীয় দিন অর্থাৎ ২৩ জুলাই ভোর ৬টা থেকে ৫ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।