পাপিয়ার জীবন কাটাছে যেভাবে


অনলাইন ডেস্ক : তরুণীদের দিয়ে অনৈতিক ব্যবসার আয়ে একটা সময় বিলাসী জীবন কাটাতেন। অনৈতিক ব্যবসার আয়ে চড়তেন দামি গাড়িতে। সমাজের প্রভাবশালীদের সঙ্গে ওঠাবসা থাকায় অনেকে তার কাছে ভিড়তে সাহসও পেতেন না। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে তার সেই আয়েশি জীবন লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। আগে যার যাতায়াত ছিল পাঁচতারকা হোটেলে ‘লেডি ডন’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সেই নেত্রী এখন কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি। সেখানে একাকীত্বেই দিন কাটছে দেশজুড়ে আলোচিত মাদক জগতের সম্রাজ্ঞী শামিমা নুর পাপিয়ার।

২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার হওয়া প্রভাবশালী নারী নেত্রী পাপিয়ার বন্দিজীবন কাটছে কাশিমপুর মহিলা কারাগারের একটি নির্জন কক্ষে। সেখানে শুয়ে-বসে সময় কাটছে অন্ধকার জগতের এই নারীর।

কারাগারের একটি সূত্র জানায়, কারাগারের একটি কক্ষে নিঃসঙ্গ জীবন কাটানো পাপিয়ার মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। জেলে যাওয়ার পর পাপিয়ার সঙ্গে তার পরিবারের কেউ তেমন দেখা করতে যায় না। এখন শুয়ে-বসে কাটছে পাপিয়ার বন্দিজীবন।

কাশিমপুর মহিলা কারাগারের সূত্রটি আরও জানায়, পাপিয়াকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের বিশেষ একটি সেলে রাখা হয়েছে। তার সঙ্গে আর কোনো বন্দি নেই। দিন-রাত একাকি কাটে ছোট্ট কক্ষের চার দেয়ালে। মাঝে মাঝে বই পড়তে দেখা যায় তাকে। বাকি সময় শুয়ে-বসে আর ঘুমিয়েই কাটান একসময়ের পাঁচতারকা হোটেলের বিলাসী জীবন কাটানো পাপিয়া।

কারাগারে সূত্রটি আরও জানায়, বন্দি সেলে পাপিয়ার কারও সঙ্গে সেভাবে মেলামেশার সুযোগ নেই। তাকে আলাদা রাখা হয়েছে। পাপিয়া নতুন বন্দি হিসেবে এই জেলে এসেছেন। এখনো তার পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ দেখা করতে আসেনি। তাছাড়া করোনাভাইরাসের বিশেষ পরিস্থিতির জন্য আপাতত এই কারাগারের বন্দিদের সঙ্গে আত্মীয়-স্বজনদের দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ রয়েছে।

পাপিয়ার মধ্যে কোনো অনুশোচনা হয় কিনা জানতে চাইলে কারাগারের সূত্রটি জানায়, ‘তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা বোধ নেই। তবে মাঝেমধ্যে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করেন। তবে বিলাসবহুল চলাচলে অভ্যস্ত পাপিয়ার বন্দি পরিবেশ মানিয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছে।’

নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের (বর্তমানে আজীবন বহিষ্কৃত) সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি দেশত্যাগের সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হন। সেদিন পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান সুমন ও তার দুই সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও কাজী তায়্যিবা নূরও একই স্থান থেকে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন।

গ্রেপ্তারের পর পাপিয়ার নানা অপকর্ম তথ্য বেরিয়ে আসে। গুলশানের পাঁচ তারকা হোটেল ওয়েস্টিনের প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুইট সাড়ে ৪ মাস ধরে ভাড়া ছিল পাপিয়ার কাছে। এ সময়ে হোটেলটির কক্ষ ভাড়া, মদের বিল, খাবারের খরচসহ আনুষঙ্গিক মোট বিল হয়েছিল তিন কোটি ২৩ লাখ টাকা। প্রতিদিন হোটেলের বিল বাবদ গড়ে খরচ করেন আড়াই লাখ টাকা। তরুণীদের অনৈতিক ব্যবহার, অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান, জাল নোটের কারবার, চাঁদাবাজি, তদবির-বাণিজ্য, জায়গাজমি দখল-বেদখল ও অনৈতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থবিত্তের মালিক হন পাপিয়া ও সুমন দম্পতি।

ধরা পড়ার পর পাপিয়াকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলা করে র‌্যাব। এছাড়া মানিলন্ডারিং আইনে আরেকটি মামলা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডি।

এছাড়াও ২০২০ সালের আগস্টে পাপিয়া দম্পতির বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ছয় কোটি টাকা সম্পদ অর্জনের মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় চার্জশিট দিয়েছে দুদক। বর্তমানে মামলাটি ঢাকা মহানগর জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

অন্যদিকে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে নরসিংদীর এই জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী ও তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমনকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। আলোচিত এই দম্পতির বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত পাঁচটি মামলা হয়েছে।

পাপিয়ার বিরুদ্ধে র‌্যাবের করা তিনটি মামলায় তাকে পাঁচ দিন করে মোট ১৫ দিনের রিমান্ড পায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাকে আবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাবের আবেদনে আরও ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। বর্তমানে মামলাগুলোর তদন্তভার র‌্যাবের হাতে।

র‌্যাবের একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘পাপিয়ার তিনটা মামলা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। আর একটি মামলায় তাদের ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। এছাড়াও সিআইডির মামলার ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।