দুর্বার গতিতে এগুচ্ছে পদ্মা সেতুর কাজ, অক্টোবরে শুরু


অনলাইন রিপোর্টার : দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতুর শেষ পর্যায়ের নির্মাণ কাজ। ইতোমধ্যে রোডস্ল্যাব বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রেলিং, লাইটিং, ল্যাম্পপোস্ট এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনের লাইন স্থাপনের কাজ। পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অক্টোবর থেকে শুরু হবে সেতুর পিচ ঢালাইয়ের কাজ। মেইন ব্রীজের মধ্যে কাজ বাকী আছে রেলিং বা প্যারাপেড ওয়াল। এছাড়া ওয়াটার প্রুফ মেমব্রেন, স্ট্রীট লাইট, সাইন সিগন্যাল, মোভমেন্ট জয়েন্ট, বেয়ারিংসহ কিছু ছোট খাট কাজ বাকী আছে যা রোডের পার্ট বলে জানান তিনি। কাজের চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় আর কোন বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা নেই বলে জানান তিনি।

এদিকে দিন যত যাচ্ছে সেতুর অবকাঠামো ততোই পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে। দিনরাত তুমুল ব্যস্ততায় কাজ করছে শ্রমিকরা। গত মাসে শেষ হয়েছে সেতুর সবগুলো স্প্যানের উপর রোডস্ল্যাব বসানোর কাজ। ফলে সড়কপথে মাওয়া ও জাজিরা উভয় প্রান্তের সড়ক সংযুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ, মুন্সিগঞ্জের মাওয়ার সাথে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা যুক্ত হয়েছে। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটল। স্থানীয়দের অভিমত, বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য পদ্মা সেতু হতে যাচ্ছে এর ইতিহাসের একটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প। দুই স্তর বিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির ওপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরটিতে থাকবে একটি একক রেলপথ। এখন পুরো সেতু জুড়েই বিচ্ছিন্নভাবে চলছে নানা কর্মকান্ড। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই রোডস্ল্যাব শেষ হওয়ায় কাজের গতি বেড়েছে অনেক গুণ। সেতুর সড়কপথে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে কংক্রিটের রোডস্ল্যাবের ওপর কার্পেটিংয়ের কাজ শুরুর পূর্বে সেতুর রোডস্ল্যাবের ওপর ৬০মিটার অংশ পরীক্ষামূলকভাবে কার্পেটিং করা হয়েছে। পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যান বসানোর ফলে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার মূল সেতু দৃশ্যমান হয়। এরপর সেতুর স্প্যানের ওপর কংক্রিটের তৈরি রোডস্ল্যাব ও রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ শুরু হয়। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতুতে ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব ও ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হয়েছে। ২৩ আগস্ট সেতুর মাওয়া প্রান্তের ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের ওপর বসানো স্প্যানে শেষ রোডওয়ে স্ল্যাবটি বসানো হয়েছে। এরপর জাজিরা প্রান্তের ৪০ ও ৪১ নম্বর পিলারে বসানো স্প্যানের ওপর ৬০ মিটার পরীক্ষামূলক কার্পেটিং করা হয়েছে। প্রকল্প সূত্র জানায়, পিচ ঢালাইয়ের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। রোডস্ল্যাব বসানোর মাধ্যমে যে কংক্রিটের পথ তৈরি হয়েছে, তার ওপর ‘ওয়াটারপ্রুফ মেমব্রেন’ নামের একটি স্তর বসানো হবে। এর ওপর কয়েক স্তরের কার্পেটিং হবে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূল সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। সেতু নির্মাণের মোট বাজেট ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। সর্বশেষ সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব অনুসারে, আগামী বছরের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা। এরপরও প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর থাকবে। তবে সে সময় সেতুর কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তা মেরামত ও ঠিকাদারের পাওনা মেটানোর জন্য নির্ধারিত।

এদিকে শরীয়তপুরের নানা উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভাগ্যের দুয়ার খুলছে পদ্মা সেতু। উন্নয়নের দিক দিয়ে এক সময়ের ৬৪তম নম্বরে থাকা অবহেলিত শরীয়তপুর জেলা হচ্ছে সোনালি সেতুর শ্যামল ভূমি। শরীয়তপুরে চলছে উন্নয়নের মহাকর্মযজ্ঞ। শরীয়তপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের দুয়ার খুলে দিয়েছে পদ্মা সেতু। এ অঞ্চলের প্রায় ৭ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়িত হয়েছে। শরীয়তপুরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে গোটা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের নতুনমাত্রা যোগ হল। পদ্মা সেতুর দু’পাড়ে গড়ে উঠবে সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের আদলে বিশ্বমানের শহর। দেশি-বিদেশি পর্যটক আসবে বিশে^র অন্যতম সৌন্দর্য্যমন্ডিত এই পদ্মা সেতু দেখার জন্য। পদ্মা পাড়ে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবার বিশাল মুক্ত চরাঞ্চলে গড়ে উঠবে বিশ্বমানের রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট, হোটেল, মোটেলসহ বিলাশবহুল নানা প্রতিষ্ঠান। গড়ে ওঠার সম্ভাবনার তালিকায় রয়েছে বিমান বন্দরও। পদ্মা সেতুর ল্যান্ডিং পয়েন্ট জাজিরার নাওডোবাতে চলমান রয়েছে শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী প্রতিষ্ঠার কাজ। বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় ভরে যাবে এ এলাকা। শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষকরে এই সেতুটি অপেক্ষাকৃত অনুন্নত অঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিল্প বিকাশে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখবে। দেশের পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে পদ্মা সেতু। সেতুটিতে ভবিষ্যতে গ্যাস এবং ফাইবার অপটিক কেবল সম্প্রসারণের ব্যবস্থা রয়েছে। সর্বক্ষেত্রে ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করছে পদ্মা পাড়ের মানুষ। শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতুর সাথে শরীয়তপুরবাসীর সড়ক পথে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ইতোমধ্যে ১হাজার ৬শ’ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিস হতে কাজিরহাট পযর্ন্ত ফোরলেন সড়ক নির্মাণ, কাজিরহাট ব্রীজ ও কোটাপাড়া নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন হওয়ায় কৃষিনির্ভর এ জেলায় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে শেখ হাসিনা কৃষি বিশ^বিদ্যালয়, শেখ হাসিনা ওয়াস টাওয়ার ও হাইটেক পার্ক, শেখ রাসেল মিনি-স্টেডিয়াম, ইনডোর স্টেডিয়াম, যুব উন্নয়ন রিসোর্স কেন্দ্র, ডাল গবেষণা কেন্দ্রসহ অন্যান্য স্থাপনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার লাভ করায় তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে ইকবাল হোসেন অপু এমপি আরো বলেন, দেশের ও দেশের জনগণের উন্নয়নের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে শরীয়তপুরে এসব প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়িত হলে শরীয়তপুর জেলা হবে আধুনিক উন্নত মডেল জেলা। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসলেই দেশের উন্নয়ন হয়। সেই সুবাদে শরীয়তপুর ও জাজিরাতে নানা উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন , বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার শুধু বার বারই দরকার নয়, আজীবনের জন্য দরকার। #
সূত্র :- https://www.dailyjanakantha.com/details/article/604430/চাল-ময়দা-তেলের-দাম-বেড়েছে