মধ্যপ্রাচ্যগামী এয়ারলাইন্সগুলোর তিন গুণ ভাড়া বৃদ্ধি, বিপাকে শ্রমিকরা


অনলাইন ডেস্ক : মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেছেন,মধ্যপ্রাচ্যগামী এয়ারলাইন্সগুলোর সিন্ডিকেট করে অনৈতিকভাবে প্রতিযোগিতা মূলক ভাবে তিন গুণ ভাড়া বৃদ্ধি করছে। যার কারণে অভিবাসী কর্মীরা বিড়ম্বনার শিকার এবং অভিবাসন ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সময় অনতিবিলম্বে বিদেশগামী কর্মীদের বিমান ভাড়া সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার দাবি জানায় সংগঠনটি।

রাজধানীর নয়া পল্টনস্থ একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে আটাব নেতৃবৃন্দ বলেন, অতিরিক্ত টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে হিমসিম খাচ্ছে বিদেশগামী কর্মীরা। চড়া দামে টিকিট কিনতে না পেরে বিদেশগামী অসহায় কর্মীরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া বহন করে যথাসময়ে কর্মস্থালে যাওয়া অভিবাসী কর্মীদের কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তারা বলেন, ঢাকা থেকে একজন প্রবাসী শ্রমিককে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে সৌদি আরব যেতে ৭৫ হাজার টাকার বেশি প্লেন ভাড়া দিতে হচ্ছে। কোনো ট্রাভেল এজেন্সিকে গ্রুপ ফেয়ার দিচ্ছে না বিমান। একই রুটে সৌদি এয়ারলাইন্সের একমুখী ভাড়াও ৭৪ থেকে ৭৫ হাজার টাকা। অথচ আগে এ ভাড়া ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এ বছরের নভেম্বর মাসেই একমুখী ভাড়া ছিল প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। তবে অযৌক্তিক কারণে এয়ারলাইন্সগুলো এ ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। আগে দুবাইয়ের ভাড়া ছিল ৪০ হাজার টাকা, বর্তমানে এমিরেটসে দুবাই যেতে ৮৭ হাজার টাকা লাগে। ওমানের মাস্কাটে আগে একমুখী ভাড়া ছিল ৩৫ হাজার টাকা, বর্তমানে সব এয়ারলাইন্স ৭২ হাজার টাকা নিচ্ছে। সৌদির ভাড়া নভেম্বরে ছিল ৪২ হাজার। বর্তমানে ৭৪ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা। এ অবস্থায় অতিরিক্ত ভাড়া বহন করা ও যথাসময়ে কর্মস্থলে যাওয়া অভিবাসীদের জন্য প্রায় অসম্ভব ও কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিমানসহ বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর এমন অতিরিক্ত ভাড়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসী শ্রমিকরা। সময়মত ফিরতে না পেরে চাকরি হারাচ্ছেন অনেকে।

সংবাদ সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে এয়ারলাইন্সের টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি ও আসন সঙ্কট রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আটাবের সভাপতি মনছুর আহামেদ কালাম। বক্তব্য রাখেন হজ্জ এজেন্সীজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম, আটাবের সহ সভাপতি মোহাম্মদ জুম্মন চৌধুরী, এন সি বৈরাগী বাবু, মহাসচিব মাজহারুল হক ভূঁইয়া, ফোরাব মহাসচিব মো.মহিউদ্দিন, বায়রার সাবেক শীর্ষ নেতা কে এম মোবারক উল্লাহ শিমুল, রিক্রুটিং এজেন্সিজ ঐক্য পরিষদের সভাপতি এম টিপু সুলতান, হাবের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা ইয়াকুব শরাফতী, বায়রার সাবেক নেতা অ্যাডভোকেট সাজ্জাদ হোসেন, হাবের শীর্ষ নেতা মাওলানা ফজলুর রহমান, বায়রার সাবেক ইসি সদস্য লিমা বেগম, ইসি সদস্য সায়েম এম হাসান, এফ আর করিম কাজল, ওলিউর রহমান ও মাহমুদুল হাসান সোহাগ।

সংবাদ সম্মেলনে আটাবের সভাপতি মনছুর আহামেদ কালাম বলেন, দেশের ও বিদেশের প্রায় সব এয়ারলাইন্সের টিকিটের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করেছে এয়ারলাইন্সগুলো, এতে এজেন্সিগুলোর কোনো প্রভাব নেই। বাংলাদেশের রুটে ফ্লাইটের ভাড়া বৃদ্ধি করলেও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে (ভারত, নেপাল) ভাড়া তুলনামূলক কম। ভাড়া বৃদ্ধির কারণে অনেকে কাজে ফিরতে পারছে না। এমন পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে অভিবাসন ব্যয়।

তিনি বলেন,মধ্যপ্রাচ্যগামী অভিবাসী কর্মীদের অনেকেই বিমানের আসন সঙ্কট এবং বিমানের টিকিটের বর্ধিত অসহনীয় ভাড়ার জন্য অসহায় দরিদ্র কর্মীরা বাড়িঘর, জমি বিক্রি করে, সুদের উপর টাকা নিয়ে অতিরিক্ত মূল্যে টিকিট ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে। অসহায় এই অভিবাসী কর্মীদের দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ছুটিতে আসা কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে যোগদানের জন্য প্রচণ্ড চাপে রয়েছে। বিমানের অনৈতিক উচ্চ মূল্যের এই ভাড়া তাদের জন্য গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সংকট সমাধানে চারটি প্রস্তাব দিয়েছে আটাব। প্রস্তাবগুলো হচ্ছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি করা, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) কর্তৃক এয়ারলাইন্সগুলোর অতিরিক্ত স্পটের অনুমোদন প্রক্রিয়া তরান্বিত করা, প্রবাসী কর্মীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ ভাড়া ঘোষণা করা, এয়ারলাইন্সগুলোর অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধে রেগুলেটরি বোর্ড গঠন করা। দাবি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

হজ্জ এজেন্সীজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, প্রতিদিন বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পর্যটক, প্রবাসী শ্রমিক ও উমরাহ যাত্রীসহ পাঁচ হাজার জনের যাওয়ার কথা। তবে টিকিটমূল্য বৃদ্ধি ও আসনের সংকট থাকায় প্রতিদিন যাচ্ছে মাত্র তিন হাজার জন। #