গাইবান্ধায় সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে বিদ্যুৎ গ্রাহক ও সেচ পাম্প মালিক সমিতির বিক্ষোভ সমাবেশ


গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
বিদ্যুৎ বিভাগের সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে ৫ দফা দাবি আদায়ে গাইবান্ধা বিদ্যুৎ গ্রাহক ও সেচ পাম্প মালিক সমিতি জেলা শাখার উদ্যোগে গতকাল রোববার শহরে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল শেষে নাট্য সংস্থা চত্বরে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে ৫ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি আসাদুজ্জামান শাহীনের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা মাসুদার রহমান মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক আনাউর রহমান, সহ-সভাপতি দেবল কুমার সরকার, আব্দুল হালিম, মাহাবুবর রহমান সুমন, মাহাবুর মিয়া প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ২০১৪-২০১৫ ও ২০১৬ সালে পিডিবির উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, ওই তিন বছরে ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকদের উপর চাপানো হয়েছে। ওই অতিরিক্ত বিল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তদন্ত কমিটির সুপারিশ ছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়ন না করায় বর্তমান সময়েও গ্রাহকদের প্রতি অতিরিক্ত বিল করার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বক্তারা ওই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহারের দাবি জানান।

তারা আরও বলেন, ২০১১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রায় ১০ কোটি টাকার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। ওই সমস্ত বিল সংশোধনের নামে কর্তৃপক্ষ নানা টালবাহানা করে সময়ক্ষেপন করছেন। বিদ্যুৎ গ্রাহক এবং সেচ মালিকদের উপর অতিরিক্ত বিল চাপিয়ে দিয়ে তাদের উপর মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করে অনেককে বাড়ি ছাড়া করেছে, এ সকল মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেন। শুধু তাইনয়, অতিরিক্ত বিল সংশোধন না করে সেচ পাম্প মালিকদের উপর মামলা দিয়ে হয়রানী করার প্রতিবাদকরায় বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে এবং অনেককে নতুন করে সেচ পাম্প চালাতে দিচ্ছে না। বিল সংশোধনের জন্য হাইকোর্টে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও বিল অনাদায়ের নামে সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ হয়রানীমূলক মামলা দেয়া অব্যাহত রয়েছে। এদিকে সময়মত সেচ পাম্প মালিকরা সংযোগ না পাওয়ায় বোরো সেচ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে জেলার কৃষি উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে। সমাবেশ শেষে বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতির প্রতিনিধিরা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপর মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ এবং সার্বিক বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে এক স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।