কাতার বিশ্বকাপ বাংলাদেশি শ্রমিকেরা ৩ বছর কোনো ছুটিই পাননি


অনলাইন ডেস্ক :
কাতার বিশ্বকাপের জন্য নির্মাণাধীন বিভিন্ন স্থাপনায় কর্মরত শ্রমিকদের ‘আধুনিক যুগের দাসের’ মতো খাটানোর অভিযোগ বেশ পুরোনো। বিরূপ পরিস্থিতিতে দেশটি শ্রম আইনে কিছু পরিবর্তনও আনে। তবে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। ফুটবলের বৈশ্বিক আসর শুরু হচ্ছে সাত মাস পর।

এমন অবস্থায় শ্রমিকদের অমানবিক পরিশ্রমের বিষয়টি ফের সামনে এসেছে অ্যামনেস্টির একটি প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, আব্দুল নামের এক বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিক তাদের জানিয়েছেন, তিন বছর ধরে তিনি কোনো সাপ্তাহিক ছুটিই পাননি।

১ এপ্রিল কাতারের দোহায় জমকালো আয়োজনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এর কয়েক দিন পরই অ্যামনেস্টি প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। এতে আটটি বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানির ৩৪ কর্মীর সঙ্গে কথা বলে তাদের অমানবিক খাটুনির অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসী শ্রমিকদের বেশিরভাগই জানিয়েছেন, কাতারের আইন অনুযায়ী সাপ্তাহিক যে ছুটি পাওয়ার কথা, তারা সেটা পাননি। আর যারা ছুটি কাটিয়েছেন, তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে মজুরি কেটে। শ্রমিকদের ভাষা, জাতীয়তা ও বর্ণভেদেও বৈষম্য করা হয়েছে।

কাতারের আইন অনুযায়ী, শ্রমিকের ওভারটাইমসহ সাপ্তাহিক সর্বোচ্চ কর্মঘণ্টা ৬০ ঘণ্টা এবং প্রত্যেকের পুরো পারিশ্রমিকসহ সপ্তাহে একদিন ছুটি পাওয়ার কথা।

অ্যামনেস্টির দাবি, ৩৪ নিরাপত্তা রক্ষীর ২৯ জন তাদের জানিয়েছেন, প্রতিদিন তারা ১২ ঘণ্টা কাজ করেছেন। ২৮ জন বলেছেন, তাদের সাপ্তাহিক ছুটি দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ অনেক শ্রমিক সপ্তাহে ৮৪ ঘণ্টা করে কাজ করেছেন।

এ ছাড়া দ্য গার্ডিয়ানে গত বছর ফেব্রুয়ারির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পাওয়ার পর থেকে দেশটিতে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার নাগরিক। মোট মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি বলেই ধারণা। কারণ, ফিলিপাইন, কেনিয়াসহ কিছু দেশের হিসাব পাওয়া যায়নি। আবার ২০২০ সালের শেষ কয়েক মাসের তথ্যও ওই প্রতিবেদনে যোগ করা হয়নি।