শ্রমিক নেতা বাদশা মিয়াকে স্মরণে ঢাকায় আলোচনা সভা ও মৃত্যুবার্ষিকী
ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি:
শ্রমিক আন্দোলনের নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক ও শ্রমিক নেতা বাদশা মিয়ার ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন)। এ উপলক্ষে রাজধানীর তোপখানাস্থ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে কেন্দ্রীয়ভাবে এক স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বাদশা মিয়ার জন্ম ১৯৬৪ সালে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার ১৫ নম্বর বড় হযরতপুর ইউনিয়নের দুবলাচারী লতিফপুর গ্রামে। তাঁর পিতা ফকির মুহাম্মদ ও মাতা আনোয়ারা বেগম। খেতমজুর পরিবারে জন্ম নেওয়া বাদশা মিয়া শৈশবেই মাকে হারান। অভাব-অনটনের মধ্যে অন্যের বাড়িতে রাখালের কাজ করে তাঁর জীবনসংগ্রাম শুরু হয়। পরে পারিবারিক নানা প্রতিকূলতার কারণে এক কাপড়ে ঢাকায় চলে আসেন।
রাজধানীতে প্রথমে হকার হিসেবে জীবিকা শুরু করলেও চাঁদাবাজি, মাস্তানদের হয়রানি ও নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে হকারি ছেড়ে একটি হোটেলে গ্লাসবয় হিসেবে কাজ নেন। সেখানেও শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন ও বৈষম্যের অভিজ্ঞতা তাঁকে শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করে।
ঢাকা মহানগরী হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কর্মী হিসেবে যাত্রা শুরু করে পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সংগঠনের আদর্শ ও স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার ছিলেন এবং শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তিনি বাংলাদেশ হোটেল শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ঢাকা মহানগর কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নৌযান শ্রমিকদের আন্দোলন, হকারদের অধিকার আদায়, কৃষক সংগ্রাম সমিতির কর্মসূচি এবং বিভিন্ন গণআন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল; তিনি ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদের কর্মকাণ্ডে অংশ নেন এবং "লাশ বিপণি" নাটকে অভিনয় করেন।
১৯৯৪ সালের ২৯ জুন ঢাকা মহানগরী হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সবুজবাগ থানা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এক কর্মীসভায় বক্তব্য দেওয়ার পরদিন, ৩০ জুন সকালে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁকে একজন সাহসী, সৎ ও মানবিক সংগঠক হিসেবে আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বাদশা মিয়ার ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আজকের আলোচনা সভায় আশির দশক থেকে শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রবীণ ও বর্তমান নেতারা অংশ নেবেন বলে আয়োজকদের আশা। সভায় তাঁর সংগ্রামী জীবন, আদর্শ এবং শ্রমিক আন্দোলনে অবদান তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে আগামী দিনের শ্রমিক আন্দোলনে তাঁর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানানো হবে।
আয়োজকরা শ্রমিক, সংগঠক, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের জনগণকে স্মরণসভায় উপস্থিত থাকার জন্য বিনীত আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: রুকুনুজ্জামান, বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ: ০১৫৫৬৩০৫০২৮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত